যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিশাল নথিপত্র প্রকাশ করেছে। এই নথিগুলিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম উল্লেখ পাওয়া যায়, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতকে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। নথির প্রকাশের পর দেশীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
বিচার বিভাগের এই প্রকাশনা মূলত এপস্টেইনের আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগের রেকর্ড নিয়ে গঠিত, যেখানে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছে। নথিতে মোদির নামের উপস্থিতি সরাসরি কোনো অপরাধের ইঙ্গিত না দিলেও, তার সঙ্গে এপস্টেইনের সংযোগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নথির বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, কিছু আর্থিক লেনদেন ও মিটিংয়ের রেকর্ডে তার নাম উল্লেখ রয়েছে, যদিও সেসব লেনদেনের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নথিতে মোদির নামের উপস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেছেন যে, এ ধরনের দাবি ভিত্তিহীন এবং সম্পূর্ণভাবে নিন্দনীয়। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভারতের সরকার নথির বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করবে না যতক্ষণ না বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে তদন্ত হয়। মন্ত্রণালয় এছাড়াও এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না, এ কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিপরীতে, ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নথিতে মোদির নামের উল্লেখকে “জাতীয় লজ্জা” বলে অভিহিত করেছে। দলটি সরকারকে এই বিষয়ের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে আহ্বান জানিয়েছে এবং নথির সত্যতা ও প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্টতা চেয়েছে। কংগ্রেসের কিছু নেতার মতে, এ ধরনের প্রকাশনা দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
কংগ্রেসের নেতা পবন খেরা বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছ থেকে সরাসরি ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখে বলেছেন, এ ঘটনা ভারতের জন্য একটি জাতীয় লজ্জা এবং জনগণকে স্পষ্ট উত্তর পাওয়া উচিত। খেরার এই আহ্বান পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর সেশনের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহি করার দাবি বাড়িয়ে তুলেছে।
এই বিতর্কের ফলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ছে। বিরোধী দলগুলো পার্লামেন্টে বিশেষ প্রশ্নোত্তর সেশন চায়, যেখানে নথির মূল বিষয়, লেনদেনের প্রকৃতি এবং মোদির সঙ্গে এপস্টেইনের সংযোগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারও এই দাবিগুলোর মুখোমুখি হয়ে সংশ্লিষ্ট তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের সূচনা করতে পারে।
বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এপস্টেইনের নথির প্রকাশনা ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যদিও নথিতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মধ্যে বহুজনের সঙ্গে এপস্টেইনের কোনো অপরাধমূলক সংযোগ প্রমাণিত হয়নি, তবু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ধরনের তথ্যের প্রকাশে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। ভারতের ক্ষেত্রে, এই ঘটনা দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে সরকারকে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।
অবশেষে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, নথির প্রকাশনা এবং ensuing বিতর্কের ফলে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর সেশন, স্বাধীন তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট নথির বিশদ প্রকাশনা এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। এ ধরণের পদক্ষেপ না নিলে রাজনৈতিক বিরোধিতা বাড়তে পারে এবং সরকারের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে প্রকাশিত এপস্টেইন নথিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামের উপস্থিতি ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সরকার নথির ভিত্তিহীনতা দাবি করে, তবে বিরোধী দলগুলো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। ভবিষ্যতে পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর সেশন এবং সম্ভাব্য তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।



