গৌতম আদানি ও সাগর আদানি, আদানি গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্ব, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত থেকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) কর্তৃক জারি করা সমন গ্রহণের অনুমোদন পেয়েছেন। এই অনুমোদন ১৪ মাসের আইনি অচলাবস্থার সমাপ্তি নির্দেশ করে, যেখানে ভারত সরকারের আপত্তি এবং আদালতের নথিপত্রের অপ্রাপ্যতা সমস্যার মূল কারণ ছিল। আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে আদানিদের এখন সমন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হয়েছে।
এসইসি ২০২৪ সালে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক লেনদেনের সম্ভাব্য লঙ্ঘন নিয়ে সমন জারি করে। সমনটি মূলত মার্কিন শেয়ারবাজারে আদানি গ্রুপের পুঁজি সংগ্রহের পদ্ধতি ও প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগের ভিত্তিতে ছিল। আদানিদের মার্কিন আইনজীবীরা সমন গ্রহণের শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করে, তবে ভারত সরকারের বারবার আপত্তি ও কূটনৈতিক জটিলতার কারণে নথিপত্রের আদান-প্রদান বাধাগ্রস্ত হয়।
২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি গৌতম ও সাগর আদানির মার্কিন আইনজীবীরা সমন গ্রহণে সম্মতি জানান। এই সম্মতি নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে দাখিল করা নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত এই নথি পর্যালোচনা করে ৩০ জানুয়ারি সমঝোতা প্রস্তাব (চুক্তি) অনুমোদন করে, ফলে সমন জারির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
অধিকারের বিচারক নিকোলাস জি গারাউফিস আদালতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে তৈরি করা সমঝোতা প্রস্তাব ও আদেশের খসড়া গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। এই চুক্তিতে এসইসির অভিযোগের উত্তর দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ‘স্টিপুলেশন’ নামে পরিচিত আনুষ্ঠানিক চুক্তির অংশ। চুক্তি অনুসারে, আদানিদের ৯০ দিনের মধ্যে ফেডারেল রুল অব সিভিল প্রসিডিউরের বিধি ১২(এ) অনুযায়ী উত্তর দাখিল করতে হবে, অথবা বিধি ১২(বি) অনুসারে মামলাটি খারিজের আবেদন করতে হবে।
অর্থাৎ, আদালতের আদেশের পর আদানিরা এখন ৯০ দিনের সময়সীমা পেয়েছেন, যার মধ্যে তারা সমন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর প্রস্তুত করতে পারবেন। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে কোনো উত্তর না দিলে আদালত স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলাটি খারিজের দিকে অগ্রসর হতে পারে। চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সমন গ্রহণের পাশাপাশি আদানিদের অন্যান্য আইনি অধিকার, বিশেষ করে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার, বজায় থাকবে।
এই আইনি অগ্রগতি আদানি গ্রুপের আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পূর্বে সমন গ্রহণে অস্বীকৃতি বা বিলম্বের ফলে শেয়ারহোল্ডার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, যা আদানির শেয়ার মূল্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। এখন আদালতের অনুমোদন পাওয়ার ফলে ভবিষ্যতে আর্থিক রেকর্ডের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক সম্মতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, আদানি গ্রুপের শেয়ার মূল্যে স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে, কারণ আইনি ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে। তবে একই সঙ্গে, সমন গ্রহণের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে কী ধরনের উত্তর দাখিল হবে তা বাজারের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদি আদানিরা যথাযথভাবে সমন সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধান করে, তবে নিয়ন্ত্রক দৃষ্টিকোণ থেকে অতিরিক্ত শাস্তি বা জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা কমে যাবে।
আদানি গ্রুপের ভবিষ্যৎ কৌশল এখন এই আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের উপর নির্ভরশীল। সমন গ্রহণের পরেও আদানিরা মার্কিন আদালতে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার বজায় রাখবে, যার মধ্যে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন ও অতিরিক্ত সমর্থন চাওয়া অন্তর্ভুক্ত। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে আদানি গ্রুপের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ ও মূলধন সংগ্রহের পরিকল্পনা পুনরায় চালু হতে পারে, তবে নিয়ন্ত্রক সম্মতি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন হবে।
সারসংক্ষেপে, গৌতম ও সাগর আদানির সমন গ্রহণের অনুমোদন আদানি গ্রুপের আইনি অবস্থাকে স্থিতিশীল করেছে এবং বাজারে স্বচ্ছতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে। তবে পরবর্তী ৯০ দিনের সময়সীমা এবং আদালতে সম্ভাব্য অতিরিক্ত যুক্তি উপস্থাপনের প্রক্রিয়া গ্রুপের আর্থিক ও সুনামগত ঝুঁকি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



