মোব বা গণপিটুনির মাধ্যমে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জানুয়ারি ২০২৪-এ মোট ২৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার ফলে ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে ডিসেম্বর ২০২৩-এ ২৪টি ঘটনা রেকর্ড করা হলেও মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র ১০ জন ছিল। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা এমএসএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই মাসের তুলনা মব সন্ত্রাসের তীব্রতা বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
ডিসেম্বরে তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক নিহত হলেও, জানুয়ারিতে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণে বেড়েছে, যা আইন শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, মব সন্ত্রাসের ফলে সৃষ্ট শিকারীর সংখ্যা বাড়া সামাজিক নিরাপত্তার অবনতি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে।
প্রতিবেদন অনুসারে, জানুয়ারিতে ৫৭টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে ডিসেম্বরের তুলনায় ৯টি বেশি। অজ্ঞাতনামা মৃতদেহের সংখ্যা বৃদ্ধি সমাজে সহিংসতা ও গুমের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। এই লাশগুলো এখনও সনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার সংখ্যা ডিসেম্বরের ১৬ থেকে জানুয়ারিতে অর্ধেকে নেমে ৮-এ পৌঁছেছে। এটি পূর্বের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস, তবে একই সময়ে সরকার পতনের পর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার মামলায় অভিযুক্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
শেখ হাসিনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলায় জানুয়ারিতে নাম উল্লেখ করা অভিযুক্তের সংখ্যা ৩০ থেকে ১২০-এ বেড়েছে, আর অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তের সংখ্যা ১১০ থেকে ৩২০-এ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
মোব সন্ত্রাসের ফলে আহতের সংখ্যা জানুয়ারিতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে, এবং একই মাসে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এই ঘটনা গুলি নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
জনপ্রিয় প্রতীক ও ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতি সম্পর্কেও জানুয়ারিতে ১৫টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে ডিসেম্বরের তুলনায় চার গুণ বেশি। এতে মূর্তি ভাঙচুর, পুরনো বাড়িঘর ধ্বংস এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন অন্তর্ভুক্ত। এই ধরণের আক্রমণ সামাজিক সংহতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মোব সন্ত্রাস, অজ্ঞাতনামা লাশের বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা একত্রে দেশের আইনগত কাঠামোর দুর্বলতা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিস্তৃতি নির্দেশ করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সকল ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।



