22 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাবাবা-ছেলের মালিকানা বিরোধে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি বন্ধ, ৬,০০০ শিক্ষার্থী বিপন্ন

বাবা-ছেলের মালিকানা বিরোধে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি বন্ধ, ৬,০০০ শিক্ষার্থী বিপন্ন

ঢাকার গাবতলীর ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি) বাবা-ছেলের মালিকানা সমস্যার কারণে বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ ফরহাদ খান, এবং পূর্বে প্রতিষ্ঠাতা মকবুল আহমেদ খান-এর মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধের ফলে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরণের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

ইইউবিতে বর্তমানে ছয় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি, যারা এখন ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য সেবা থেকে বঞ্চিত। বিশ্ববিদ্যালয়টি গত কয়েকদিন ধরে শারীরিক ক্লাস বন্ধ রাখলেও, ৩১ জানুয়ারি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পুরো ক্যাম্পাসের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায়।

মকবুল আহমেদ খান ২৬ অক্টোবর ২০২৪-এ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে ফরহাদকে নতুন চেয়ারম্যান করা হয়। মকবুলের বিরুদ্ধে কিছু শিক্ষার্থী অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার অপসারণের দাবি জানায়। তবে মকবুল দাবি করেন যে অপসারণ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি, ফলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন এবং হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।

১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের আদেশে মকবুলকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়, তবে তিনি শুধুমাত্র দর্শক হিসেবে এবং দুজন সঙ্গীর সঙ্গে সীমিত সময়ের জন্যই যেতে পারবেন। এই আদেশের পর ২২ জানুয়ারি মকবুল কয়েকজন বহিরাগতের সঙ্গে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন, যা পরিস্থিতি অশান্ত করে। একই ধরনের ঘটনা ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি পুনরাবৃত্তি হয়।

বিরোধের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় ২৩ জানুয়ারি একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দুই দিনের জন্য পরীক্ষার সময়সূচি স্থগিত করে এবং অনলাইন ক্লাস চালু করে। ২৬ জানুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটি ছিল, আর ২৭ জানুয়ারি আবার ক্লাস ও পরীক্ষার স্বাভাবিক সূচি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেয়া হয়।

একই সময়ে, ২৬ জানুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসানের আদালতে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স পরিচালক লুৎফর রহমান একটি মামলা দায়ের করেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব চেয়ারম্যান, পূর্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন আলমগীরসহ মোট তেরজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হুমকি, ভয় দেখানো এবং হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়।

এই মামলার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নজরদারি বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল ক্লাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং পরীক্ষার সময়সূচি পুনরায় নির্ধারণের অপেক্ষা করা।

শিক্ষা সংক্রান্ত কোনো পরিবর্তন বা নতুন নির্দেশনা প্রকাশিত হলে তা দ্রুত জানার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যম চ্যানেলগুলো নিয়মিত অনুসরণ করা উচিত। এছাড়া, যদি কোনো ছাত্র বা অভিভাবককে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে স্পষ্টতা ও সহায়তা চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments