22 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবারিশালের মান্তা সম্প্রদায়ের প্রথম ভোটদান, ৭৩ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত

বারিশালের মান্তা সম্প্রদায়ের প্রথম ভোটদান, ৭৩ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত

বারিশাল জেলার আরিয়েল খান, সন্ধ্যা, মিরগঞ্জ ও অন্যান্য নদীর ধারে শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে নৌকায় বসবাসকারী মান্তা সম্প্রদায়ের সদস্যরা ১৩তম জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের অভাবে পূর্বে ভোটাধিকারের বাইরে থাকা এই জনগোষ্ঠীর কিছু সদস্যকে এই বছর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সাদার উপজেলা আরিয়েল খান নদীর তীরে একক নৌকাবহিনীতে বর্তমানে প্রায় ৪০০ মানুষ ৯৩টি নৌকে পরিবারসহ বসবাস করছেন। নৌকাবহিনীর নেতা জাসিম সরদার জানান, প্রায় ৩০০জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে মাত্র ৭৩জনকে ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। “এটি আমাদের নৌকাবহিনীর জন্য প্রথমবারের মতো ৭৩ জন ভোটার ভোট দেবে,” তিনি বলেন।

বহু বছর ধরে নৌকায় বসবাসের কারণে ভোটার তালিকায় নাম না থাকা মান্তা জনগণ এখন ভোটের সুযোগ পেয়েছে, তবে রাজনৈতিক প্রার্থীদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত মনোযোগের অভাব তাদের হতাশ করেছে। জেলা জুড়ে প্রায় ৩,০০০ মান্তা মানুষ বিভিন্ন নদীতে বসবাস করলেও, এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী তাদের ঘাঁটিতে আসেনি। জাসিম সরদার উল্লেখ করেন, “গত সপ্তাহে লাহারহাটে এক প্রার্থীই আমাদের দেখার জন্য এসেছেন, তার পর আর কোনো প্রার্থী, কোনো উপজেলা পরিষদের সদস্য বা চেয়ারম্যান আমাদের ঘাঁটিতে আসেনি।” এই অভাবের কারণে ভোটারদের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

লাহারহাট নৌকাবহিনীর একজন বয়স্ক মহিলা ভোটার জানান, “আমরা মৃতদেহকে ভূমিতে দাফ করতে পারি না, নদীর পানি পান করি, কোনো প্রার্থী আমাদের কাছে আসে না। ভোট দিলে কী লাভ হবে তা বুঝতে পারছি না।” তার মতামতকে সমর্থন করে সাদার উপজেলার চারবাড়িয়া নৌকাবহিনীর নেতা রানা বলেন, তাদের নৌকাবহিনীতে ২৮টি নৌকে প্রায় ১০০ জন মানুষ বসবাস করে, তবে অর্ধেকের কমই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

মান্তা সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করা চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আলি জিবন জানান, তাদের কার্যক্রম সাদার উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বিস্তৃত। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির পরেও, ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়া, ভোট কেন্দ্রের অবস্থান ও প্রার্থীদের সম্পর্কে মৌলিক তথ্যের অভাব রয়েছে, যা তাদের ভোটদানকে কঠিন করে তুলছে।

প্রতিনিধি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করা হলেও, ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তি ও ভোটদান সুবিধা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। মান্তা সম্প্রদায়ের ভোটদান প্রক্রিয়া সফল হলে, নদীর ওপর বসবাসকারী অন্যান্য নৌকাবহিনীর জন্যও একই সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের সর্বজনীন ভোটাধিকার বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে।

এই প্রথম ভোটদান উদ্যোগের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, স্থানীয় নির্বাচন অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটারদের জন্য তথ্যবহুল সেশন, ভোট কেন্দ্রের নিকটবর্তী অবস্থান নির্ধারণ এবং ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোরও নৌকাবহিনীর মধ্যে ক্যাম্পেইন চালিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে মান্তা জনগণের অংশগ্রহণের হার বাড়ে এবং তাদের অধিকার পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments