শনিবার থিরুভানান্থাপুরামে ভারত এ ও নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি মুখোমুখি হয়ে একটি রেকর্ড‑বহুল ম্যাচ উপস্থাপন করে। ভারত এ ২০ ওভারে ২৭১ রান সংগ্রহ করে, যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর হিসেবে স্থান পায়। এই স্কোর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পূর্বের সর্বোচ্চ ২৪৫ রনের অস্ট্রেলিয়া রেকর্ডকে অতিক্রম করে, যা ২০১৮ সালে অকল্যান্ডে স্থাপিত ছিল।
ম্যাচের সবচেয়ে আলাদা দিক ছিল আরশদিপ সিংয়ের পারফরম্যান্স; তিনি একই ইনিংসে পাঁচটি উইকেট নেন, যা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক স্তরে কোনো অন্য খেলোয়াড়ের সমান রেকর্ড নেই। তার এই সাফল্য দলকে দ্রুত অগ্রগতি করতে সহায়তা করে এবং ম্যাচের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
ভারত এ ২৭১ রানের জবাবে নিউজিল্যান্ড ২২৫ রান করে, ফলে মোট রান ৪৯৬ হয়। এই মোট স্কোর টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে তালিকাভুক্ত। সর্বোচ্চ স্কোরের শীর্ষে এখনও ৫১৭ রান নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই রয়েছে, যা ২০২৩ সালে ক্যারিবিয়ান দলকে ২৫৯ রনে পরাজিত করে গড়ে তোলা হয়।
ইনিংসে ভারত এ ২৩টি ছক্কা মারতে সক্ষম হয়, যা একক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার সমান। এই সংখ্যা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জোহানেসবার্গে ২০২৪ সালে করা ২৩টি ছক্কার সঙ্গে সমান। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে ১৩টি ছক্কা যুক্ত হয়, ফলে দুই দলের সম্মিলিত ছক্কা সংখ্যা ৩৬টি, যা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত।
বিশ্ব রেকর্ড অনুযায়ী এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা সংখ্যা ২৯টি, যা গত ডিসেম্বর ক্রোয়েশিয়া ও স্পেনের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গৃহীত হয়েছিল। তবে ভারত এ ও নিউজিল্যান্ডের এই ম্যাচে ছক্কা সংখ্যা ঐ রেকর্ডের কাছাকাছি হলেও তা অতিক্রম করেনি।
সিরিজের মোট ছক্কা সংখ্যার দিক থেকে ভারত এ ৫ ম্যাচে ৬৯টি ছক্কা মারতে সক্ষম হয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বিশ্ব রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃত। পূর্বে ২০২৩ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে এবং একই বছরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গৃহীত ৬৪টি ছক্কা রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে। দুই দলের সম্মিলিত ছক্কা সংখ্যা ১১৬টি, যা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডের মধ্যে পড়ে; ২০২৩ সালে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ১২০টি ছক্কা গৃহীত হয়েছিল।
এই ম্যাচের পরবর্তী সূচি অনুযায়ী ভারত এ টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে, যেখানে তারা এই শীর্ষ পারফরম্যান্স বজায় রাখতে চায়। নিউজিল্যান্ডের কোচ টিমও দলের শক্তি পুনর্বিবেচনা করে, ভবিষ্যৎ ম্যাচে রণসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান ও রেকর্ডগুলো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের উত্সাহীদের জন্য নতুন আলোচনার বিষয় তৈরি করেছে, এবং আন্তর্জাতিক স্তরে উভয় দলের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।



