ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা জর্ডান লাক্স, ৩৩ বছর বয়সী, এবং তার মা ড্যানি এক্সারম্যান, ৫৯, দীর্ঘ সময়ের পারিবারিক বিচ্ছেদের পর আবার একসাথে আছেন। জর্ডান ২৫ বছর বয়সে তার মাকে ফোন নম্বর ব্লক করে সামাজিক মাধ্যম থেকে মুছে ফেলেছিলেন, যা তীব্র কষ্ট ও বিরক্তির ফলাফল ছিল। এই ঘটনার পর প্রায় তিন বছর ধরে দুজনের সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল।
বিচ্ছেদের সময় জর্ডান ও ড্যানি একে অপরের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখতেন না, এবং উভয়ই একে অপরের প্রতি গভীর রাগ ও অবিশ্বাসের মধ্যে ছিলেন। তবে ছয় বছর ধরে ধীরে ধীরে শিখন, তর্ক, রাগে ফোন কেটে দেওয়া এবং যোগাযোগের অভাবের পরপরই দুজনের মধ্যে পুনর্মিলনের পথ খুলে যায়। থেরাপি সেশনের পাশাপাশি দুজনের মধ্যে কঠিন কথোপকথনগুলো এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা পারিবারিক জটিলতা ও অশান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
ড্যানি এক্সারম্যান স্বীকার করেছেন যে তিনি তার মেয়ের জন্য যথেষ্ট উপস্থিত ছিলেন না এবং বহু ভুল করেছেন। তিনি বলেন, পুনর্মিলন সব পরিবারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়; কখনও কখনও বিচ্ছেদই একমাত্র সমাধান হতে পারে। জর্ডানও একই দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেছেন, তিনি উল্লেখ করেন যে পুনর্মিলন একটি দীর্ঘ ও সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া, যা সময়, ধৈর্য এবং উভয় পক্ষের ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন।
এই ব্যক্তিগত গল্পের পাশাপাশি, একই সময়ে বিখ্যাত বেকহ্যাম পরিবারের মধ্যে একটি তীব্র বিরোধ প্রকাশ পায়। জানুয়ারির শেষের দিকে ব্রুকলিন বেকহ্যাম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন যে তিনি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলন করতে চান না, কারণ তিনি তাদের নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক প্রভাবের অভিযোগ করেন। তার বাবা-মা এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
অনলাইন মন্তব্যগুলো দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। কিছু ব্যবহারকারী ব্রুকলিনকে স্বার্থপর ও কৃতজ্ঞতাহীন বলে সমালোচনা করেন, অন্যদিকে অনেকেই তার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নিজস্ব অবস্থান গ্রহণের প্রশংসা করেন। এই বিতর্ক পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা ও ব্যক্তিগত সীমানার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরে।
গবেষণার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, পারিবারিক বিচ্ছেদ ততটা বিরল নয়। জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় এক চতুর্থাংশ (২৭%) প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান কমপক্ষে একজন পরিবারের সদস্যের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে বিচ্ছেদ একটি সামাজিক বাস্তবতা, যা বিভিন্ন কারণের ভিত্তিতে ঘটতে পারে।
সারসংক্ষেপে, জর্ডান ও ড্যানির পুনর্মিলন থেরাপি ও খোলামেলা কথোপকথনের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে, যদিও তারা স্বীকার করেন যে সব পরিবারই একই পথে অগ্রসর হতে পারে না। একই সময়ে বেকহ্যাম পরিবারের ঘটনা সামাজিক মিডিয়ায় পারিবারিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নের আলোচনাকে তীব্র করে তুলেছে, যেখানে ব্যক্তিগত মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে সমতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।



