বাংলাদেশ সরকার ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘোষণা করেছে যে দেশের সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে হ্রাস পাবে। গ্লোবাল তেল মূল্যের পতন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মূল্য হ্রাসের তথ্য সকল পেট্রোল পাম্পে একসাথে প্রয়োগ করা হবে।
প্রকাশিত নির্দেশিকায় পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন এবং অক্টেনের প্রতি লিটারে নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকার হ্রাস উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট হ্রাসের পরিমাণ সংবাদে প্রকাশিত হয়নি, তবে বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে হ্রাসের পরিমাণ ৫ থেকে ১০ টাকার মধ্যে থাকবে। এই পরিবর্তন দেশের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো ব্যাঘাত না ঘটিয়ে বাস্তবায়িত হবে।
জ্বালানি দামের এই কমতি সরাসরি পরিবহন খাত এবং দৈনন্দিন যাত্রীদের উপর প্রভাব ফেলবে। ট্যাক্সি, বাস এবং লোডার চালকদের জ্বালানি ব্যয় কমে গড়ে ২০-৩০ শতাংশ সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে পণ্য পরিবহন খরচও কমে, শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের মূল্যের ওপর হ্রাসের প্রতিফলন দেখা যাবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে জ্বালানি দামের হ্রাস মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সহায়ক হবে, বিশেষ করে তেল-চালিত পণ্যের মূল্যে। সরকার এই পদক্ষেপকে মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে এবং আগামী মাসে মুদ্রাস্ফীতি হারকে ৫ শতাংশের নিচে রাখার পরিকল্পনা জানিয়েছে।
একই সময়ে সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে; প্রতি ভরি সোনার মূল্য ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি আর্থিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তবে জ্বালানি দামের হ্রাসের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংযোগ নেই।
জাতীয় নির্বাচন শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি চলার মধ্যে এই ঘোষণা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৩৩০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়েছে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি দামের হ্রাস ভোটারদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বাজারে জ্বালানি দামের পরিবর্তন সম্পর্কে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং স্থানীয় মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার চালাবে। পেট্রোল পাম্পে নতুন মূল্য তালিকা স্থাপন এবং রসিদে হ্রাসের পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে।
এনবিআর (Nbr) এই দামের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করবে এবং কোনো অনিয়ম বা দামের অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। বাজারে সঞ্চয় বা দামের অতিরিক্ত বৃদ্ধি রোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
পরিবহন ইউনিয়ন এবং ট্রাক ড্রাইভার সমিতি এই দামের হ্রাসকে স্বাগত জানিয়ে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে জ্বালানি ব্যয় কমে কর্মচারী ও মালিকদের আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে।
অন্যদিকে, কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী সতর্ক করেছে যে জ্বালানি দামের হ্রাসের ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থায়ী গতি পরিবর্তন হতে পারে, তাই বাজারের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকারকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে।
সরকারের এই পদক্ষেপের সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত দায়িত্বের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে নীতি প্রণয়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, জ্বালানি দামের হ্রাস দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক মঙ্গলের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার এই নীতি চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো গড়ে তুলবে।
এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের পর প্রথম সপ্তাহে জ্ব



