22 C
Dhaka
Sunday, February 1, 2026
Google search engine
HomeরাজনীতিZulu রাজা মিসুজুলু বিদেশিদের দেশ ত্যাগের আহ্বান জানান

Zulu রাজা মিসুজুলু বিদেশিদের দেশ ত্যাগের আহ্বান জানান

কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশে ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে জুলু রাজা মিসুজুলু কা জোয়েলিথিনি বিদেশিদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার দাবি জানিয়ে শোনেন। তিনি ইসান্দলওয়ানা পাহাড়ের নিচে, যেখানে ১৪৭ বছর আগে ২০,০০০ জুলু যোদ্ধা ১,৮০০ ব্রিটিশ সৈন্যকে পরাজিত করেছিল, সেখানে সমর্থকদের সমাবেশে এই বক্তব্য রাখেন।

ইসান্দলওয়ানা যুদ্ধ জুলু জাতির গর্বের প্রতীক, কারণ ঐ সময়ের বিদেশি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জুলুদের বিজয়কে জাতীয় গৌরবের চিহ্ন হিসেবে স্মরণ করা হয়। ঐ ঐতিহাসিক স্থানটি আজও জুলু সংস্কৃতিতে সম্মানিত, এবং রাজা এই স্থানটি বেছে নেওয়া তার বক্তব্যের প্রভাব বাড়াতে সহায়তা করে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় ২.৪ মিলিয়ন বিদেশি বাস করে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ শতাংশ। অধিকাংশই লেসোথো, মোজাম্বিক এবং জিম্বাবুয়ের মতো প্রতিবেশী দেশ থেকে কর্মসংস্থান খোঁজে আসা শ্রমিক। সরকারী তথ্য অনুযায়ী এই গোষ্ঠীর সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজা মিসুজুলু সমাবেশে “কোয়েরেকোয়েরি” শব্দটি ব্যবহার করে বিদেশিদের দেশ ত্যাগের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এমনকি যদি কোনো দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিকের সঙ্গী বা সন্তান বিদেশি হয় তবুও বিদেশিকে প্যাক করে বেরিয়ে যেতে হবে, সন্তানকে রেখে। এই বক্তব্যের পর সমাবেশে উপস্থিতদের হাসি ও তালি শোনা যায়।

অনলাইন ব্যবহারকারীরা রাজ্যের এই মন্তব্যকে তীব্র সমালোচনা করে, বিশেষ করে তার নিজের পারিবারিক পটভূমি উল্লেখ করে। মিসুজুলুর মা ইসোয়াতিনি (ইসোয়াতিনি) থেকে আসা, এবং তার এক স্ত্রীরও একই দেশীয় মূল রয়েছে, যা তার বিদেশি বিরোধী রেটোরিককে ত্রুটিপূর্ণ করে তুলেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশি বিরোধী মনোভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা, যা অতীতে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। মিসুজুলুর পিতামহ, প্রাক্তন রাজা গুডউইল জোয়েলিথিনি, ২০১৫ সালে একই রকম মন্তব্য করে বিদেশিদের “প্যাকিং” করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ঐ সময়ের মন্তব্যের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছিল।

মিসুজুলু পরে তার বক্তব্যের ভুল উদ্ধৃতি হওয়ার দাবি তুলে ধরেন এবং ব্যাখ্যা দেন যে তিনি কোনো হিংসাত্মক আহ্বান দেননি। তবে তার এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও, সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক তীব্রভাবে চলতে থাকে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তার মন্তব্যকে দেশের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের রেটোরিক দেশের শ্রমবাজারে বিদেশি শ্রমিকের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনাকে তীব্র করে তুলতে পারে। সরকার যদি বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি গ্রহণ করে, তবে তা শ্রমিক অধিকার ও অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

অধিকন্তু, রাজ্যের এই বক্তব্যের ফলে জাতীয় স্তরে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে কোনো জাতীয় নেতা যদি জাতিগত ভিত্তিতে বৈষম্যপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন, তা সামাজিক সংহতি ও শান্তি বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

ভবিষ্যতে, দক্ষিণ আফ্রিকান সরকারকে এই ধরনের মন্তব্যের প্রভাব মূল্যায়ন করে নীতি নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যদি রাজা বা অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা বিদেশি বিরোধী রেটোরিক চালিয়ে যান, তবে তা নির্বাচনী প্রভাব, সামাজিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সারসংক্ষেপে, মিসুজুলু কা জোয়েলিথিনির ইসান্দলওয়ানা সমাবেশে বিদেশিদের দেশ ত্যাগের আহ্বান দেশের অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, যা রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments