অসামি মারিয়াস বর্গ হোইবি, ২৯ বছর বয়সী, মঙ্গলবার ওসলো জেলা আদালতের কক্ষ ২৫০-এ নরওয়ের সর্ববৃহৎ ট্রায়ালগুলোর একটি শুরু করেছে। তিনি ৩৮টি অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত, যার মধ্যে চারজনের ওপর ধর্ষণ, গার্লফ্রেন্ডকে হুমকি ও শারীরিক নির্যাতন, সম্পত্তি নষ্ট করা, মাদক ও গাড়ি চালানোর লঙ্ঘন অন্তর্ভুক্ত। আদালত আগামী সাত সপ্তাহের জন্য কোর্টের ভিতরে ও বাইরে ফটো তোলা নিষেধ করেছে, তবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া ব্যাপকভাবে উপস্থিত।
মারিয়াসের মা হলেন ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট, আর তার সৎপিতা হলেন ক্রাউন প্রিন্স হায়াকন, যাকে তিনি নিজের সন্তান হিসেবে বিবেচনা করে। যদিও রয়্যাল পরিবার জোর দিয়ে বলছে যে মারিয়াস রয়্যাল পরিবারের সদস্য নয় এবং তিনি কোনো জনসাধারণের ব্যক্তিত্ব নন, তবু তিনি পরিবারিক সম্পর্কের কারণে জনমত ও মিডিয়ার তীব্র দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। নরওয়ের রাজা হারাল্ড ভি, ৮৮ বছর বয়সী, মারিয়াসকে তার দাদা হিসেবে চেনেন এবং তিনি প্রায়ই পরিবারের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্তদের তালিকায় চারটি ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে, যা ২০১৮ সালে স্কগুম এস্টেটের অফিসিয়াল রেসিডেন্সে শুরু হয়ে নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত বিস্তৃত। একটি অভিযোগ ২০২৩ সালের, যেখানে নারী নিদ্রিত অবস্থায় যৌন সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। বাকি তিনটি অভিযোগেও যৌন নির্যাতনের উল্লেখ রয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনাগুলো রয়্যাল পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে ঘটেছে বলে জানা যায়।
ধর্ষণ ছাড়াও, মারিয়াস গার্লফ্রেন্ডের প্রতি হুমকি, শারীরিক নির্যাতন এবং তার ফ্ল্যাটে সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে দায়ী। অভিযুক্তি অনুসারে তিনি চ্যান্ডেলিয়ার ভাঙা, ছুরিকে দেয়ালে নিক্ষেপ করা এবং আয়না ভেঙে ফেলা সহ বিভিন্ন ধ্বংস কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি নারীর প্রতি ‘হোয়োর’ শব্দ ব্যবহার করে অপমান করেছেন। এই ধরনের আচরণ তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের দায়িত্বে আরও কঠোর করে তুলেছে।
মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে তিনি অবৈধ পদার্থের মালিকানা ও ব্যবহার, পাশাপাশি গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের জন্যও দায়ী। এই সব অভিযোগ একত্রে তাকে দশ বছরের বেশি কারাদণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা নরওয়ের আইনি ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ শাস্তির মধ্যে পড়ে।
প্রাসাদ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে মারিয়াস রয়্যাল পরিবারের কোনো আনুষ্ঠানিক সদস্য নয় এবং তিনি জনসাধারণের ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হবেন না। তবে পরিবারিক সম্পর্কের কারণে এই মামলাটি রয়্যাল পরিবারের সুনাম ও নৈতিক দায়িত্বের প্রশ্ন তুলেছে।
একজন বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, রয়্যাল পরিবারকে সমাজে আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তাই এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়া পরিবারকে কঠিন অবস্থায় ফেলতে পারে। জনমত বিশেষ করে নরওয়ের নাগরিকদের মধ্যে রয়্যাল পরিবারের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা বাড়িয়ে তুলেছে।
মারিয়াস কিছু ছোটখাটো অপরাধ স্বীকার করেছেন; গ্রেফতারের পর তিনি শারীরিক নির্যাতন এবং সম্পত্তি নষ্ট করার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি চ্যান্ডেলিয়ার ভাঙা, ছুরিকে দেয়ালে নিক্ষেপ করা এবং আয়না ভাঙার মতো কাজের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, যা আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হবে।
অভিযুক্তি অনুযায়ী, মারিয়াসের দ্বারা চ্যান্ডেলিয়ার ধ্বংস, ছুরির নিক্ষেপ এবং আয়না ভাঙা ঘটনাগুলো ঘটনার সময়ের ভিডিও ও সাক্ষীর বিবরণে উল্লেখিত হয়েছে। এই প্রমাণগুলো আদালতে তার অপরাধের তীব্রতা ও ইচ্ছাকৃত স্বভাবকে তুলে ধরবে।
ট্রায়ালটি আগামী সাত সপ্তাহের জন্য চলবে এবং প্রতিটি সেশন পাবলিক রেকর্ডে থাকবে, যদিও ছবি তোলা নিষিদ্ধ। আদালত প্রক্রিয়ার সময় সকল পক্ষকে যথাযথ আইনি অধিকার প্রদান করবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেওয়া হবে।
এই মামলাটি নরওয়ের আইনি ইতিহাসে অন্যতম বড় ট্রায়াল হিসেবে বিবেচিত, কারণ এতে রয়্যাল পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত, রায় যদি মারিয়াসকে দোষী সাব্যস্ত করে, তবে তিনি দশ বছরের বেশি কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন, যা নরওয়ের বিচার ব্যবস্থার কঠোরতা ও ন্যায়বিচারকে প্রতিফলিত করবে।



