যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসোরের সম্পর্কের নতুন নথি প্রকাশের পর, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টার্মার অ্যান্ড্রুকে মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকারদের স্বার্থে তথ্যপ্রাপ্তি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন।
স্টার্মার প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তথ্যধারী যে কোনো ব্যক্তি তার জ্ঞান শেয়ার করতে প্রস্তুত থাকা উচিত এবং শিকারদের অধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি এপস্টেইনের শিকারদের প্রথমে বিবেচনা করার গুরুত্বেও জোর দিয়েছেন।
এই মন্তব্যের পটভূমি হল যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের সম্প্রতি প্রকাশিত তিন মিলিয়নেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি, যেখানে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসোরের ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ছবিগুলোতে তাকে এক নারীকে ঘুঁটিয়ে বসে থাকা, পেটের দিকে হাত রাখার এবং সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকার দৃশ্য দেখা যায়। ছবিগুলোর কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি।
প্রকাশিত নথিগুলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর প্রকাশিত হয়। এপস্টেইনের নিউ ইয়র্ক সিটিতে অবস্থিত ম্যানশনের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ছবিগুলোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।
অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসোর, যিনি পূর্বে প্রিন্স অ্যান্ড্রু ও ডিউক অব ইয়র্ক নামে পরিচিত, ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে তার রয়্যাল শিরোনাম থেকে বাদ পড়েছিলেন, কারণ এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের ওপর বাড়তে থাকা তদন্তের ফলে। ছবিগুলো তার ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে, যদিও তিনি বারবার কোনো ভুল কাজের স্বীকারোক্তি দেননি।
নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্যরা অ্যান্ড্রুকে এপস্টেইন তদন্তের অংশ হিসেবে প্রশ্নোত্তরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন। সেই সময় স্টার্মার উল্লেখ করেন, এই আমন্ত্রণটি অ্যান্ড্রুর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এখন তিনি আবারও তার সাক্ষ্যদানকে জনসাধারণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে প্রকাশ করেছেন।
বিবিএস নিউজ অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসোরের কাছ থেকে মন্তব্য চেয়েছে, তবে তিনি এখনও কোনো মন্তব্য দেননি। তিনি পূর্বে এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো অনৈতিক সম্পর্ক নেই বলে অস্বীকার করেছেন।
স্টার্মারের এই আহ্বান যুক্তরাজ্য‑যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং রয়্যাল পরিবারের জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি অ্যান্ড্রু কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন, তবে তা যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এবং রয়্যাল পরিবারের ভবিষ্যৎ ভূমিকায় নতুন আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেসের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনও অনির্ধারিত, তবে এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তের ধারাবাহিকতা এবং নতুন নথির প্রকাশের ফলে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসোরের ওপর চাপ বাড়তে থাকবে। যুক্তরাজ্য সরকারকে এই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হতে পারে, বিশেষ করে শিকারদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার সম্মান রক্ষার দিক থেকে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসোরকে মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে বলার সিদ্ধান্ত, এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশের নীতি ও রয়্যাল পরিবারের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।



