গতকাল বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে অবস্থিত গোল্ড’স জিমে ‘ডিনার উইথ দ্য স্টারস’ শিরোনামের নেটওয়ার্কিং ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। এই সমাবেশে দেশের জনপ্রিয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ফিটনেস পেশাজীবীরা একত্রিত হয়ে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন।
ইভেন্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুবসমাজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং ডিজিটাল সৃষ্টিকর্তাদের ফিটনেস জগতে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা। পুলসাইডে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে শতাধিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা জিমের সামাজিক ভূমিকা আরও দৃঢ় করে।
সমাবেশের সমাপ্তিতে গোল্ড’স জিম ও অংশগ্রহণকারী ক্রিয়েটরদের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করা হয়। এই চুক্তি ভবিষ্যতে যৌথ প্রকল্প, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং কন্টেন্ট সহযোগিতার ভিত্তি গঠন করবে।
মে ২০২৫ সালে চালু হওয়া গোল্ড’স জিম দ্রুত দেশের বৃহত্তম এবং সর্বাধিক সজ্জিত জিম সেন্টার হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ওয়ার্কআউট, কার্ডিও, ক্রাউ থেরাপি, কোল্ড প্লাঞ্জ, জাকুজি পুল এবং হিমালয়ান সল্ট বাথসহ বিভিন্ন সুবিধা এখানে একত্রে পাওয়া যায়।
পুরুষ ও নারীর জন্য আলাদা দুটি সুইমিং পুল, প্রতিটি আধুনিক সরঞ্জাম সমৃদ্ধ, জিমের মোট ক্ষমতা প্রায় ৮০০ সদস্যের সমান। এই বিশাল ক্ষমতা শহরের ফিটনেস চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গোল্ড’স জিমের সব যন্ত্রপাতি ইতালির শীর্ষস্থানীয় টেকনোজিম কোম্পানি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে, যা রোলস-রয়েসের মতো বিলাসবহুল গাড়ির মানের সঙ্গে তুলনা করা যায়। সীমিত সংস্করণ হলেও এই সরঞ্জামগুলো উচ্চমানের এবং ব্যবহারকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সুবিস্তৃত স্থাপনা তিনটি তলায় বিভক্ত। নিচতলায় স্বাগত কক্ষের সঙ্গে ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে, যেখানে অতিথিরা বিশ্রাম নিতে এবং হালকা খাবার উপভোগ করতে পারেন। ডান পাশে ১০০ মিটার লম্বা সুইমিং পুল অবস্থিত, যা প্রশিক্ষণ ও বিনোদনের জন্য উপযোগী। তলায় আরও একটি লাউঞ্জ এলাকা আছে, যেখানে সদস্যরা সামাজিক মেলামেশা করতে পারেন।
দ্বিতীয় তলাটি সম্পূর্ণভাবে নারীদের জন্য নির্ধারিত, যেখানে নারী সদস্যদের জন্য বিশেষভাবে সাজানো জিম সরঞ্জাম ও সেবা প্রদান করা হয়। এখানে প্রাইভেট ট্রেনিং রুম এবং নারীর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিশেষ ক্লাসও চালু রয়েছে।
তৃতীয় তলায় কার্ডিও জোন রয়েছে, যেখানে ট্রেডমিল, এলিপটিকাল, সাইক্লিং মেশিন এবং রোয়িং মেশিনের মতো আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপিত। এই জোনে উচ্চ তীব্রতার ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং এবং দীর্ঘ দূরত্বের কার্ডিও সেশন উভয়ই করা যায়।
চতুর্থ তলায় ট্রেনিং জোনের মধ্যে স্কোয়াট র্যাক, পুল-আপ বার, অলিম্পিক বারবেল, ওয়েট প্লেট, ফ্ল্যাট বেঞ্চ, ডাম্বেল, স্যান্ড ব্যাগ, রেসিস্ট্যান্স ব্যান্ড এবং অন্যান্য ফিটনেস যন্ত্রপাতি রয়েছে। এই জোনটি শক্তি প্রশিক্ষণ, বডি বিল্ডিং এবং ফাংশনাল ট্রেনিংয়ের জন্য উপযুক্ত। এছাড়াও এখানে গ্রুপ ক্লাসের জন্য স্পেসিফিক এলাকা রয়েছে, যেখানে জুম্বা, পিলাটিস এবং হাই ইন্টেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং পরিচালিত হয়।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে হিমালয়ান সল্ট বাথ রুম রয়েছে, যেখানে নেমে শ্বাস নিলে ফুসফুস পরিষ্কার হয় এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত। এই সল্ট বাথের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত, যা রিল্যাক্সেশন এবং ডিটক্সিফিকেশন উভয়ই প্রদান করে।
সদস্যরা ওয়ার্কআউটের পর পুলে সাঁতার কাটতে পারেন, যা শারীরিক ক্লান্তি দূর করে তাজা অনুভূতি দেয়। পুলের পাশে জিমের রিকভারি জোনে স্ট্রেচিং এবং ম্যাসাজ সেবা উপলব্ধ, যা প্রশিক্ষণের পর পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করে।
গোল্ড’স জিমে বর্তমানে ২১ জন দক্ষ ট্রেইনার কাজ করছেন, যারা সদস্যদের ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ, গ্রুপ ক্লাস এবং পুষ্টি পরামর্শ প্রদান করেন। প্রশিক্ষকরা আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনধারী এবং নিয়মিত আপডেটেড ফিটনেস ট্রেন্ড অনুসরণ করেন।
সুবিন্যস্ত যন্ত্রপাতি এবং প্রশিক্ষকদের উপস্থিতি জিমকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ফিটনেস কেন্দ্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সুনাম নতুন সদস্যদের আকৃষ্ট করে এবং বর্তমান সদস্যদের ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ইতিমধ্যে জিমের ব্যবহারকারী সংখ্যা বাড়ছে, এবং নতুন সদস্যদের যোগদানের জন্য অপেক্ষা তালিকাও দীর্ঘ। বিশেষ করে যুবক ও তরুণ পেশাজীবীরা আধুনিক সুবিধা এবং পেশাদার প্রশিক্ষকের কারণে এই জিমকে পছন্দের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
গোল্ড’স জিমের এই নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ফিটনেস সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, যা ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত প্রকল্পের সম্ভাবনা তৈরি করবে। ক্রিয়েটররা জিমের সুবিধা ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে তাদের কন্টেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন।
ইভেন্টের শেষে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, যৌথ ভিডিও কন্টেন্ট এবং ফিটনেস চ্যালেঞ্জের পরিকল্পনা করা হয়। এই ধরনের সহযোগিতা সামাজিক মিডিয়ায় বৃহৎ দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি করবে।
গোল্ড’স জিমের ব্যবস্থাপনা উল্লেখ করেছে, এই ধরনের ইভেন্টের মাধ্যমে যুব সমাজের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফিটনেসের জনপ্রিয়তা বাড়ানো সম্ভব হবে। তারা আরও বলেছে, ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এধরনের সমাবেশের আয়োজন করা হবে।
বসুন্ধরা গ্রুপের মতে, আধুনিক সরঞ্জাম, প্রশস্ত স্থান এবং পেশাদার প্রশিক্ষক দলের সমন্বয়ই জিমকে দেশের শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার মূল চালিকাশক্তি। তারা জিমের অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে গর্ব প্রকাশ করেছে।
গোল্ড’স জিমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আরও নতুন সুবিধা যোগ করা, যেমন রিকভারি সেন্টার, পুষ্টি পরামর্শ কেন্দ্র এবং শিশুদের জন্য ফিটনেস প্রোগ্রাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই পরিকল্পনা জিমকে সব বয়সের জন্য একক গন্তব্যে রূপান্তরিত করবে।
এই ইভেন্টের মাধ্যমে জিমের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী হয়েছে এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নেটওয়ার্কে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ক্রিয়েটররা জিমের সুবিধা ব্যবহার করে অনলাইন ফিটনেস চ্যালেঞ্জ এবং লাইভ সেশন চালু করার সম্ভাবনা দেখছেন।
সামগ্রিকভাবে, গোল্ড’স জিমের আধুনিক অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক মানের সরঞ্জাম এবং সমন্বিত সেবা দেশের ফিটনেস শিল্পে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। এই ধরনের উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং ডিজিটাল কন্টেন্টের গুণগত মান উভয়ই উন্নত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।



