ব্রাজিলের পরিচালক ক্লেবার মেনডোন্সা ফিলহো রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে উপস্থিত হয়ে তার সর্বশেষ কাজ ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’‑এর অর্জিত চারটি অস্কার নোমিনেশন, যার মধ্যে সেরা ছবি অন্তর্ভুক্ত, নিয়ে আলোচনা করেন। এই চলচ্চিত্রে ওয়াগনার মুরা প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন এবং বিশ্বব্যাপী সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।
উৎসবে তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল চলচ্চিত্র শিল্পে এখনও বিদ্যমান পুরনো কাস্টিং পদ্ধতি, যেখানে অভিনেতা-অভিনেত্রীর চেহারাকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। তিনি এই প্রবণতাকে ‘আধুনিক সময়ের সাথে সামঞ্জস্যহীন’ বলে সমালোচনা করেন এবং জোর দেন যে অভিনয়ের গুণাবলি চেহারার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কাস্টিং প্রক্রিয়ার জটিলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, এই ধাপটি শিল্পের বিভিন্ন অংশের চাপের মুখে থাকে। এজেন্সি, টিভি সিরিজের প্রযোজক, এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা প্রায়শই নির্দিষ্ট মুখের জন্য নির্দিষ্ট চরিত্রের প্রস্তাব দেন, যা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। যদিও এই চাপগুলো কখনো কখনো তীব্র হয়, তবু তিনি উল্লেখ করেন যে তা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তকে সরাসরি প্রভাবিত করে না।
তবু, শিল্পের মধ্যে এখনও ‘সুন্দর মুখের’ ধারণা প্রাধান্য পায়, যা তিনি ‘পুরনো’ এবং ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কখনো কখনো দর্শক কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রীর প্রতি আকৃষ্ট হয় তার স্বাভাবিক প্রতিভা ও পারফরম্যান্সের কারণে, প্রশিক্ষণের অভাব থাকলেও। তাই, কাস্টিংয়ে চেহারার চেয়ে অন্য মানদণ্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘এটি চেহারার বিষয় নয়, বরং অন্য কিছু’—যা সম্ভবত চরিত্রের গভীরতা, আবেগগত সংযোগ এবং অভিনয়ের স্বতন্ত্রতা। তার এই মন্তব্য শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।
প্যানেল আলোচনায় শিশু অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও উঠে আসে। মেনডোন্সা ফিলহো এবং সহ-পরিচালক সিমন উভয়েই শিশুরা যে স্বাভাবিকতা ও সততা নিয়ে আসে তা প্রশংসা করেন। তারা উল্লেখ করেন, শিশুরা প্রায়শই দৃশ্যের মুহূর্তে পুরোপুরি নিমগ্ন থাকে, যা বড়দের পারফরম্যান্সকে আরও স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত করে তুলতে সাহায্য করে।
সিমন আরও যোগ করেন, শিশুরা প্রায়শই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হয়ে ওঠে; তাদের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং মুহূর্তের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা পুরো সেটের পরিবেশকে উজ্জীবিত করে। এই দিক থেকে শিশুরা কেবল নিজেরাই নয়, অন্য অভিনেতাদেরও উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।
তবে, মেনডোন্সা ফিলহো সামাজিক মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি একটি কাস্টিং সেশনের কথা স্মরণ করেন, যেখানে একটি শিশুরা ক্যামেরার দিকে সরাসরি তাকিয়ে ইনফ্লুয়েন্সারের মতো আচরণ করছিল। তিনি এটিকে ‘টিভি কিড’ এবং ‘ইন্টারনেট কিড’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা তার স্বাভাবিকতা ও স্বচ্ছন্দে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
অবশেষে, তিনি যে শিশুকে শেষ পর্যন্ত কাস্টে বেছে নেন, সেটি ছিল ‘অত্যন্ত প্রকাশশীল এবং স্বাভাবিক’ একটি ছেলে, যার পারফরম্যান্স পুরোপুরি প্রকৃত স্বভাবের প্রতিফলন। এই নির্বাচন তার বিশ্বাসকে দৃঢ় করে যে, সত্যিকারের প্রতিভা এবং স্বতঃস্ফূর্ততা কাস্টিংয়ের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।
সিমনও একটি আকর্ষণীয় ঘটনা শেয়ার করেন, যেখানে সাত বা আট বছর বয়সী একটি মেয়ে স্ক্রিন টেস্টের সময় অন্য মেয়েটিকে ‘শত্রু’ বলে উল্লেখ করে। এই ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্যগুলো শিশুরা কতটা স্বচ্ছন্দে নিজেদের প্রকাশ করতে পারে তা তুলে ধরে।
সারসংক্ষেপে, রটারড্যাম উৎসবে মেনডোন্সা ফিলহো এবং তার সহ-পরিচালকেরা কাস্টিং প্রক্রিয়ায় চেহারার অতিরিক্ত গুরুত্বের পরিবর্তে প্রতিভা, স্বতঃস্ফূর্ততা এবং চরিত্রের গভীরতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, শিশু অভিনেতাদের স্বাভাবিকতা ও সততা কীভাবে পুরো চলচ্চিত্রের গুণগত মানকে উঁচুতে তুলে ধরতে পারে, তা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এই আলোচনাগুলো ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাণে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈচিত্র্যময় কাস্টিং নীতির বিকাশে সহায়তা করবে।



