স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসি ও ওয়েস্ট হ্যামের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচে, শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজের গোল চেলসিকে ২-১ করে জয়ী করিয়ে দিল। ম্যাচের প্রথমার্ধে ওয়েস্ট হ্যাম জাররড বাওয়েন ও ক্রিসেন্সিও সামারভিলের গোলের মাধ্যমে দুই গোলের সুবিধা নিয়ে এগিয়ে ছিল। তবে চেলসির হেড কোচ লিয়াম রোজেনিয়র তৃতীয় পরিবর্তনের পর দলকে পুনর্গঠন করে, শেষ পর্যন্ত সমতা ও জয় অর্জন করতে সক্ষম হন।
প্রথমার্ধে ওয়েস্ট হ্যামের আক্রমণাত্মক চাপ চেলসির রক্ষাকে অস্থির করে দেয়। আরন ওয়ান-বিসাকার ডানফ্ল্যাঙ্ক থেকে বাওয়েনের কাছে পাসটি দ্রুত অগ্রসর হয়, এবং ক্যাপ্টেনের ইনসুইং ক্রস বাওয়েনকে গোলের সুযোগ দেয়। সামারভিলের দ্রুত দৌড়ে তিনি পাসটি গ্রহণ করে সোজা নেটের দিকে শট মারেন, ফলে ওয়েস্ট হ্যাম ১-০ নিয়ে এগিয়ে যায়।
চেলসির প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স অনিয়মিত ছিল, তবে রোজেনিয়র তৃতীয় পরিবর্তনে ওয়েসলি ফোফানা ও জোয়াও পেড্রোকে মাঠে নামিয়ে দেন। উভয় খেলোয়াড়ের সংযোজন দ্রুতই ফল দেয়; পেড্রোর পাসে ফোফানা গোলের সুযোগ তৈরি করেন, তবে শেষ মুহূর্তে শটটি পোস্টে আঘাত করে। প্রথমার্ধের শেষের দিকে ওয়েস্ট হ্যাম আবারও সামারভিলের গোলের মাধ্যমে ২-০ বাড়িয়ে নেয়, যা তাদের জয় নিশ্চিত করার মতো দেখায়।
দ্বিতীয়ার্ধে রোজেনিয়র আরও তিনজন খেলোয়াড়কে পরিবর্তন করেন, যার মধ্যে মার্ক কুকুরেলা অন্তর্ভুক্ত। কুকুরেলা ৬০তম মিনিটে চেলসির প্রথম গোল করেন, যা স্কোরকে ২-১ করে তুলল এবং ম্যাচকে পুনরায় উন্মুক্ত করল। একই সময়ে চেলসির আক্রমণাত্মক গতি বাড়তে থাকে, এবং পেড্রো ও ফোফানা একসাথে গোলের সুযোগ তৈরি করেন।
ম্যাচের শেষের দিকে অতিরিক্ত সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে। পেড্রো ডানফ্ল্যাঙ্ক থেকে বলটি কেটে ফার্নান্দেজের কাছে পাঠিয়ে দেন, এবং তিনি দ্রুত দৌড়ে গিয়ে একক শটে নেটের পিছনে বলটি পাঠিয়ে চেলসির জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলের ফলে চেলসির স্কোর ২-১ হয়ে যায় এবং ওয়েস্ট হ্যাম তাদের দুই গোলের সুবিধা হারায়।
গোলের পর মাঠে উত্তেজনা বাড়ে; একাধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। জঁ-ক্লেয়ার টোডিবো জোয়াও পেড্রোকে ধাক্কা দিয়ে তাকে থ্রোটল করার অভিযোগে লাল কার্ড পান এবং মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হন। এই ঘটনা ম্যাচের শেষের দিকে তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।
ওয়েস্ট হ্যামের কোচ নুনো এস্পিরিটো সান্তোর প্রথমার্ধের কৌশল প্রশংসিত হয়, তবে দ্বিতীয়ার্ধে দলের মনোভাবের পরিবর্তন তাদের ফলাফলকে প্রভাবিত করে। দলটি ১৭তম স্থানে নটিংহাম ফরেস্টের পাঁচ পয়েন্ট নিচে রয়েছে এবং এই পরাজয় তাদের রিলিগেশন সংগ্রামের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রোজেনিয়র ম্যাচটি দলের মানসিকতা পরীক্ষা করার সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন, বিশেষ করে নিম্ন র্যাঙ্কের দলগুলোর বিরুদ্ধে কম আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত নয়।
চেলসির এই জয় তাদের লিগ কাপে আর্সেনালের সঙ্গে আসন্ন সেমি-ফাইনালের প্রস্তুতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। তবে রোজেনিয়র উল্লেখ করেন যে দলকে এখনও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে, বিশেষ করে পরিবর্তনশীল লাইনআপের সঙ্গে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায় যে চেলসির শুটিং সংখ্যা বাড়লেও গলসের গড় কম ছিল, তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দক্ষতা তাদের জয় নিশ্চিত করেছে। ওয়েস্ট হ্যাম প্রথমার্ধে অধিক বলের দখল রাখলেও শেষের দিকে রক্ষণে দুর্বলতা প্রকাশ পায়।
এই ম্যাচের ফলাফল প্রিমিয়ার লীগ টেবিলে চেলসির অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, আর ওয়েস্ট হ্যামের রিলিগেশন ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে। উভয় দলই পরবর্তী ম্যাচে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করে শীঘ্রই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।



