ঢাকার বিজয় নগরে একটি ব্যবসায়ী নারী, যিনি কাপড়ের ব্যবসা করেন, তার নিজের আইনজীবী শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ অনুসারে, মামলার তথ্য জানার জন্য আইনজীবীর চেম্বারে গিয়ে তিনি রাত ৯ টার দিকে শামসুলের সঙ্গে এককথা হয়ে গেছেন এবং পরে তিনি শামসুলের ওপর যৌন আক্রমণের অভিযোগ তুলেছেন।
শামসুল ইসলাম, যিনি বিজয় নগরের মাহতাব সেন্টারের ১৬ তলা চেম্বারে কাজ করেন, অভিযোগের পরই পুলিশ দ্বারা গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তারটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার পর, যখন শামসুলকে পল্টন থানার এসআই রয়েল হোসেনের নির্দেশে গৃহবন্দী করা হয়।
গ্রেপ্তার পরপরই তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই রয়েল হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি শামসুলের বিরুদ্ধে জেলখানা জারি করার আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই আবেদন অনুমোদন করে শামসুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ভুক্তভোগী নারী ব্যবসায়ী জানান, শামসুলের সঙ্গে তার পরিচয় ওয়ারী এলাকার একই পাড়া থেকে। তিনি শামসুলকে “কাকা” বলে ডেকেছেন এবং পূর্বে ব্যবসা সংক্রান্ত একটি মামলায় শামসুলের মাধ্যমে জামিন পেয়েছেন। জামিনের পর শামসুল মামলার তারিখ জানাতে দেরি করে এবং নানা টালমাটাল করে। এরপর শামসুল ফোনে তাকে চেম্বারে ডেকে নিয়ে যান।
নারী অভিযোগে উল্লেখ করেন, রাত ৯ টার দিকে তিনি চেম্বারে গিয়ে শামসুলকে একা বসে ফোনে কথা বলতে দেখেন। এরপর শামসুলের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি যৌন আক্রমণের শিকার হন। শামসুলের আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতে, শামসুলকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে তিনি দাবি করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কাজী জাকির হোসেন জানান, শামসুলের বিরুদ্ধে জেলখানা জারি করার সিদ্ধান্তটি মামলার ঘটনার দুই ঘণ্টা পরই নেওয়া হয়। শামসুলের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান এবং মামলার পরবর্তী ধাপের জন্য আদালতে তার উপস্থিতি প্রয়োজন।
শামসুলের আইনজীবী মহিউদ্দিন চৌধুরীর মন্তব্যে বলা হয়েছে, শামসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের সময়সীমা ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া অস্বাভাবিক এবং এটি একটি রহস্যজনক মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে, আইনি দিক থেকে সব প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহের পরই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পল্টন থানা এবং সংশ্লিষ্ট আদালত মামলাটির তদন্ত ও প্রক্রিয়াকরণে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। শামসুলের বিরুদ্ধে জেলখানা জারি হওয়ায় তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং আদালতে তার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হবে।
বিজয় নগরের এই ঘটনা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আইন পেশাজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নারী ব্যবসায়ীর দাবি অনুযায়ী, শামসুলের সঙ্গে তার পূর্বের পেশাগত সম্পর্ক ছিল এবং এই সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি শামসুলের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। এখন এই বিশ্বাস ভেঙে গেছে এবং মামলাটি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
মামলার তদন্তে পল্টন থানার এসআই রয়েল হোসেন এবং প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কাজী জাকির হোসেনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তারা মামলার সব দিক যাচাই করে শামসুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন করেছেন।
মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শীঘ্রই আপডেটের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



