দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলারকে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য খেলতে অনুমতি দিয়েছেন। মিলার, যিনি ৩৬ বছর বয়সে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার শারীরিক অবস্থা এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বলে জানানো হয়েছে।
মিলারকে সাম্প্রতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সময় কুঁচকিতে আঘাত লেগে প্লে-অফের শেষ দুই ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি। সেই আঘাতের কারণে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেও বিশ্রাম নিয়েছিলেন।
চিকিৎসক দলের পর্যালোচনার পরে মিলারকে পুনরায় মাঠে ফিরতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, ফলে তার শঙ্কা সৃষ্টিকারী মেঘ দূর হয়েছে। এখন তিনি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভারতের দিকে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মিলার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১৩৩টি ম্যাচে ২,৬৩০ রান সংগ্রহ করেছেন, যার গড় স্ট্রাইক রেট ১৪০.৫৬। তার নামের পাশে দুইটি শতক এবং আটটি পঞ্চাশের অঙ্ক যুক্ত, যা তার ধারাবাহিকতা এবং আক্রমণাত্মক শৈলীর প্রমাণ।
দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দলের দলে সাম্প্রতিক আঘাতজনিত পরিবর্তনও ঘটেছে। টনি ডি জর্জি এবং ডনোভান ফেরেইরা শারীরিক সমস্যার কারণে বিশ্বকাপের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তাদের পরিবর্তে রায়ান রিকেলটন ও ট্রিস্টান স্টাবসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা পূর্বে রানার্স‑আপ হিসেবে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
দলটি রবিবার জোহানেসবার্গ থেকে মুম্বাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। রওনা হওয়ার পর বুধবার ভারতের সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে, যা বিশ্বকাপের মূল ম্যাচের আগে দলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করবে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি ৯ ফেব্রুয়ারি কানাডার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দল ‘ডি’ গ্রুপে রয়েছে, যেখানে আফগানিস্তান, নিউ জিল্যান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতও প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে।
মিলারকে পুনরায় মাঠে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তটি কোচিং স্টাফের জন্য একটি বড় সাফল্য, কারণ তার অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণাত্মক ক্ষমতা দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সমর্থন করবে। দলটি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলীয় কৌশলগত পরিকল্পনায় মিলারের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, বিশেষ করে শীর্ষ স্তরের টি-টোয়েন্টি ম্যাচে যেখানে দ্রুত রান সংগ্রহের প্রয়োজন হয়। তার উচ্চ স্ট্রাইক রেট এবং বড় স্কোরের ক্ষমতা দলকে গেমের গতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দল এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুনরায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রস্তুত, এবং মিলারের স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধার এই আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। দলটি শীঘ্রই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে, যেখানে তারা শীর্ষ শত্রুদের মুখোমুখি হবে।
মিলারের পুনরায় অনুমোদন এবং দলের সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকরা দলটির সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তবে সবকিছুই মাঠে ফলাফলেই নির্ধারিত হবে, এবং দলটি এখনো তার সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত।
দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দল আগামী সপ্তাহে মুম্বাইয়ে পৌঁছে, যেখানে তারা ভারতের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচের পর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের জন্য শেষ প্রস্তুতি নেবে। দলটি শীঘ্রই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে এসে তার শক্তি এবং কৌশল প্রদর্শন করবে।



