রাজশাহী শহরের হরগরম বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি ত্রিস্তরীয় ফ্ল্যাটে ৫০ বছর বয়সী রওশন আরা নিহত হন এবং স্বামী গুলাম কিবরিয়া কামাল আত্মহত্যার চেষ্টা করার সন্দেহে পুলিশ তদন্ত চালু করেছে। ঘটনাটি শুক্রবার সন্ধ্যায় ৯৯৯ নম্বরে কল পাওয়ার পর স্থানীয় কাশিয়াদাঙ্গা থানা পুলিশ ফ্ল্যাটে পৌঁছায়। রওশন আরা হাসপাতালে পৌঁছানোর মুহূর্তেই মৃত ঘোষণা করা হয়, আর কামালকে জরুরি সেবায় নিয়ে গিয়ে তীব্র যত্নে ভর্তি করা হয়।
রওশন আরার বড় ভাই এসএম শাখাওয়াত হোসেন (শাহাদাত হোসেন) ঘটনাস্থলে গৃহহত্যা সংক্রান্ত মামলা দায়ের করে। তিনি কাশিয়াদাঙ্গা থানা-র অফিসার‑ইন‑চার্জ ফরহাদ আলীর কাছে অভিযোগ জানান, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে গৃহহত্যার পর ফ্ল্যাটের দরজা ভিতর থেকে তালা লাগানো ছিল এবং কোনো তৃতীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না। এই পরিস্থিতি থেকে অনুমান করা যায় যে গুলাম কিবরিয়া কামাল তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
ফরহাদ আলী জানান, প্রাথমিক তদন্তে দম্পতির মধ্যে চলমান গৃহস্থালী বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনার বিশদ জানার জন্য শেষ পোস্ট‑মর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আত্মহত্যা সন্দেহজনক ক্ষেত্রে আঘাতের চিহ্ন সাধারণত অনিয়মিত হয়, যা কামালের হাতে ও পায়ে দেখা গিয়েছে।
গুলাম কিবরিয়া কামাল রাজশাহী সংবাদপত্রের সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন এবং হরগরম বাজারের ত্রিস্তরীয় ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। রওশন আরা মৃত অবস্থায় ফ্ল্যাটের মেঝেতে পাওয়া গিয়েছিল, আর কামালকে শোয়ানোর বিছানায় পাওয়া যায়। ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙতে হয়েছিল, কারণ তা ভিতর থেকে তালা লাগিয়ে রাখা ছিল।
রওশন আরার গলায় একটি কাপড় মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়, যা সম্ভবত গৃহহত্যার সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। রমচ (রাজশাহী মেডিকেল কলেজ) জরুরি বিভাগে কাজ করা ডাঃ বিলাল হোসেন জানান, কামাল তার হাতে ও পায়ে আঘাতের পাশাপাশি একটি রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণের লক্ষণ দেখিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থার উন্নতি বা অবনতি সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থলে কোনো তৃতীয় ব্যক্তি পাওয়া যায়নি এবং দরজা ভিতর থেকে তালা লাগানো থাকায় ফ্ল্যাটে প্রবেশের কোনো বাহ্যিক চিহ্ন দেখা যায়নি। এই বিষয়টি আত্মহত্যা সন্দেহকে আরও শক্তিশালী করে। তবে তদন্তের পরবর্তী ধাপে ফ্ল্যাটের সিসিটিভি রেকর্ড, প্রতিবেশীর বিবৃতি এবং মৃতদেহের ফরেনসিক বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আসামি গুলাম কিবরিয়া কামালের বিরুদ্ধে গৃহহত্যা ও আত্মহত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হবে বলে পুলিশ জানায়। মামলার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আদালতে তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক দায়িত্ব প্রমাণের জন্য প্রমাণাদি উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে রওশন আরার পরিবারকে শোক প্রকাশের জন্য সমর্থন ও সহায়তা প্রদান করা হবে।
এই ধরনের গৃহহিংসা ও আত্মহত্যা প্রচেষ্টা সমাজে গভীর উদ্বেগের বিষয়, তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও গৃহস্থালী বিরোধের সমাধানমূলক পদক্ষেপের আহ্বান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।



