শুক্রবার বিকেলে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের শাক্তা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জামায়াত-এ-ইসলামি আমির শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত তার মতামত উপস্থাপন করেন। তিনি উপস্থিত ভিড়কে লক্ষ্য করে বললেন, বর্তমান সময়ে জনগণ যখন জবাব চায়, তখনই বিরোধীরা ভোটের বিষয়টি উত্থাপন করতে শুরু করেছে।
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ভোটের প্রক্রিয়াকে অগ্রাহ্য করেছে, আর এখন জনমত চাপের ফলে তারা ধীরে ধীরে গণভোটের কথা বলছে। তিনি এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এই পরিবর্তনটি স্বার্থপরতার ফল।
তিনি আরও জানান, জুলাই মাসে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো যদি একসাথে গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত না হয়, তবে সেগুলো বাস্তবায়িত হবে না। তাই তিনি দাবি করেন, ভোট ও সংস্কার একসাথে হওয়া উচিত, যাতে নির্বাচন ও গণভোট উভয়ই স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়।
শফিকুর রহমানের মতে, বর্তমান সরকারকে বাধ্য করা হবে ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি একটি জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করতে, যা জনগণ এখনও পুরোপুরি স্বীকার করে নি। তিনি উল্লেখ করেন, এই তারিখে একসাথে গণভোট ও সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করবে।
তিনি বর্তমান শাসনকে ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে, গত সাড়ে পনেরো বছর ধরে ব্যাংক ডাকাতি, জনসাধারণের পকেট কেটে নেওয়া এবং দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ তোলেন। শফিকুর রহমানের মতে, এসব কাজ বাংলাদেশকে ‘চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য’ করে তুলেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, জুলাই মাসে গৃহীত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে বহু মানুষ দীর্ঘ সময়ের জন্য অজানা স্থানে বন্দী রাখা হয়, তাদের পরিবারগুলো তাদের অবস্থান সম্পর্কে অজ্ঞাত। শফিকুর রহমান এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এই মানুষদের কবরের আকারের ঘরে আটকে রাখা হয়েছে, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য।
তিনি উল্লেখ করেন, কিছু গোষ্ঠী জুলাই শহীদদের অবহেলা করে, তাদের তুচ্ছতা করার চেষ্টা করেছে এবং তাদের স্মৃতিকে স্বীকৃতি না দিয়ে চলেছে। শফিকুর রহমানের মতে, যখন জনগণ বুঝতে শুরু করে যে জুলাইই বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তখন সরকারই নিজেদেরকে মাস্টার মাইন্ড হিসেবে উপস্থাপন করে।
শফিকুর রহমানের মতে, জুলাইকে সম্মান করা মানে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, জোরপূর্বক জমি দখল এবং মামলাবাণিজ্যকে প্রত্যাখ্যান করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ঘটনাগুলোকে স্বীকার না করলে সমাজের ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি সতর্ক করেন, যদি এই দাবিগুলো উপেক্ষা করা হয়, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হবে। শফিকুর রহমানের মতে, একসাথে গণভোট ও সংসদীয় নির্বাচন না করা হলে দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে যাবে।
র্যালিতে উপস্থিত সমর্থকরা শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতি প্রকাশ করে চিৎকার ও নাড়ি তুলেছেন, যা তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তিনি শেষ করে বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি গণভোট এবং সংসদীয় নির্বাচনের সমন্বয়কে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অপরিহার্য শর্ত হিসেবে বিবেচনা করবে।



