সাতক্ষীরা সদর, তেঁতুলতলা গ্রামে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল প্রায় সাতটায় দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে। মাছের ঘেরে চোরাচালান রোধে বিদ্যুৎ তার বেঁধে রাখার কাজ করছিলেন ৩৫ বছর বয়সী মনিরুল ইসলাম; তিনি টমেটো তোলার সময় পা পিছলে জীবন্ত তারে জড়িয়ে গিয়ে তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করেন।
মাছের ঘেরের চারপাশে বৈদ্যুতিক তার টানার কাজটি চোরকে বাধা দেওয়ার জন্য করা হয়। মনিরুল, যিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত, ওই কাজের জন্য তারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ছিলেন। কাজের সময় তিনি ঘেরের পার্শ্বে টমেটো তোলার জন্য গিয়ে হঠাৎ পা পিছলে গিয়ে তারে আটকে যান।
বৈদ্যুতিক শক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনিরুলের শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। তার পাশে কাজ করছিলেন শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের নূর ইসলাম খোকার ছেলে, ৩০ বছর বয়সী সবুজ হোসেন। তিনি মনিরুলের চিৎকার শোনার পর দ্রুত তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে তাড়াতাড়ি মুক্ত করার চেষ্টা করেন।
দুর্ভাগ্যবশত, শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের সবুজ হোসেনও জীবন্ত তারে স্পর্শ করে বৈদ্যুতিক শকের শিকার হন। শোবার সময়ই তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। দুজনেরই মৃত্যু একসাথে ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের স্রোত বইছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, ঘটনাটি সকাল সাতটায় ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, মনিরুল মাছের ঘেরের বাঁধে টমেটো তুলতে গিয়ে পা পিছলে বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে গেছেন। শোচনীয়ভাবে, শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের সবুজ হোসেনও তৎক্ষণাৎ শক পেয়ে মারা যান।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওয়্যারড অফিসার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত চালু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
পুলিশের মতে, বিদ্যুৎ তারের অনিয়মিত ব্যবহার এবং নিরাপত্তা বিধি না মানা এই দুজনের মৃত্যুর প্রধান কারণ। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনও ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা বাড়াতে কর্মসূচি চালু করার কথা জানিয়েছে।
এই ঘটনাটি বিদ্যুৎ নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় চোরাচালান রোধে অস্থায়ী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা গ্রহণের সময় যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ ছাড়া কাজ করা বিপজ্জনক হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেন ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।



