রেলপথ মন্ত্রণালয় রেল যাত্রী, ট্রেন এবং রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি অফিস আদেশ জারি করেছে। আদেশটি শনিবার রেল মন্ত্রণালয়ের অফিস থেকে প্রকাশিত হয় এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশের মূল লক্ষ্য হল রেল পরিবহনকে সম্ভাব্য নাশকতা থেকে রক্ষা করা এবং সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের সময় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নাশকতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে গণপরিবহন হিসেবে রেলকে লক্ষ্য করে এমন কোনো কার্যকলাপের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় রেলস্টেশন কর্মী, গেটকিপার এবং রেল পুলিশকে তৎক্ষণাৎ অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য প্রায় ৫১টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রায় দুই হাজার প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। নির্বাচনের ব্যাপকতা এবং উচ্চ অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রেল সেবার চাহিদা বাড়াবে, ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। মন্ত্রণালয় এই প্রেক্ষাপটে রেল যাত্রী, ট্রেন এবং রেল অবকাঠামোর সামগ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নির্ধারণ করেছে।
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারবে না। দলটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন স্থগিতের ফলে দলটি এইবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না। এই পরিস্থিতি রেল নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
অফিস আদেশে রেল মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তাদেরকে রেল যাত্রী, ট্রেন এবং রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নির্ধারণ, তা বাস্তবায়ন এবং অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোনো নাশকতা বা ক্ষতির প্রচেষ্টা লক্ষ্য হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ রেলস্টেশনের কর্মচারী, গেটকিপার অথবা রেল পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।
সন্দেহজনক কোনো ঘটনা বা পরিস্থিতি নজরে এলে সাধারণ জনগণকে বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন নম্বর ১৩১-এ কল করে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। হটলাইনটি ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। মন্ত্রণালয় এই ব্যবস্থা মাধ্যমে সম্ভাব্য হুমকি দ্রুত সনাক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে।
নির্বাচন সংক্রান্ত নিরাপত্তা নির্দেশের বাস্তবায়ন রেল সেবার ধারাবাহিকতা এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, সকল সংস্থা ও কর্মী একত্রে কাজ করলে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা কমে যাবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
সামগ্রিকভাবে, রেল নিরাপত্তা নির্দেশের মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয় নির্বাচনকালীন রেল সেবার সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের ফলস্বরূপ রেল যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং নির্বাচনের সময় রেল অবকাঠামোর ওপর কোনো ক্ষতিকারক প্রভাব কমে যাবে।



