বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান শনিবার ঢাকার বনানী ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় গাড়ি ট্যাক্স আদায়ে সার্ভার না থাকার সমস্যার কথা তুলে ধরে তথ্য‑প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে দুর্নীতি ও অকার্যকারিতা নিয়ে সরকারের নিন্দা করেন।
মঈন খান উল্লেখ করেন, আইসিটি মন্ত্রণালয় প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, এবং তার অধীনে বাংলাদেশকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা চালু করা হয়।
তবে তিনি বলেন, সেই উদ্যোগের ফলাফল প্রত্যাশিতভাবে না পৌঁছানোর প্রধান কারণ হল ধারাবাহিক দুর্নীতি। “আমি তিন‑চার দিন আগে নিজের গাড়ির ট্যাক্স দিতে গিয়ে দেখেছি, সিস্টেমটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় হলেও সার্ভারে সমস্যা দেখা দিল,” তিনি বলেন।
মঈন খান জানান, ট্যাক্স পেমেন্টের সময় সিস্টেমে কোনো নম্বরের সঙ্গে অন্য নম্বরের মিল না থাকার বার্তা দেখানো হয়। সমস্যাটি সমাধান করতে একদিন, দুইদিন, তিনদিন সময় লেগে যায়, ফলে ট্যাক্সের শেষ তারিখ অতিক্রান্ত হয়। “সাত দিন লাগল পুরো কাজটি শেষ করতে, আর সাতটি অফিসে ঘুরে ঘুরে আমাকে হস্তক্ষেপ করতে হলো,” তিনি যোগ করেন।
আইসিটি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবনকে সহজ করা, এ কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “যদি প্রযুক্তি মানুষের কাজকে কঠিন করে তোলে, তবে তার কোনো লাভ নেই।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, গত পনেরো বছরে আইসিটি ক্ষেত্রে কোনো বাস্তব উদ্ভাবন বা প্রযুক্তিগত প্রয়োগ দেখা যায়নি।
মঈন খান গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পরিকল্পিত আইসিটি নগরীর উদাহরণ দিয়ে বলেন, সরকার ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটি চালু করলেও এখনো কোনো ফলাফল দেখা যায়নি। “এখানে শুধু দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু সেবা মানুষের কাছে পৌঁছায়নি,” তিনি মন্তব্য করেন।
বিএনপি এই মুহূর্তে আইসিটি খাতে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। মঈন খান উল্লেখ করেন, “আমাদের লক্ষ্য হল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাগরিকদের সেবা সহজ করা, আর এজন্য দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা প্রয়োজন।” তিনি অতিরিক্তভাবে বলেন, সরকার যদি এই সমস্যাগুলো সমাধান না করে, তবে ভবিষ্যতে ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন হারানোর ঝুঁকি থাকবে।
সভার শেষে উপস্থিত অন্যান্য নেতারা মঈন খানের বক্তব্যে সম্মতি জানিয়ে, আইসিটি সেক্টরে তদারকি শক্তিশালী করা, সার্ভার অবকাঠামো আধুনিকায়ন এবং বাজেটের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি তীব্র করেন।
এই অভিযোগের উপর সরকারী পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, আইসিটি সেক্টরের এই ধরনের সমস্যাগুলো নির্বাচনী সময়ে বিরোধী দলগুলোর জন্য রাজনৈতিক লিভারেজ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
বিএনপি দাবি করে, যদি সরকার দ্রুত সমস্যার সমাধান না করে, তবে নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়বে এবং তা পরবর্তী নির্বাচনে ভোটের প্রবণতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এদিকে, সরকারী দপ্তরে আইসিটি সেবা উন্নয়নের জন্য নতুন নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানানো হয়েছে।



