বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান শনিবার মিরপুরের জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইন‑শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করা হবে না।
কমান্ডার এহসান উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা বজায় রাখতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের পরিবর্তে কম শক্তি ও কম ফোর্স ব্যবহার করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গুলিবিদ্ধি বা প্রাণঘাতী শাস্তি ছাড়া শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব।
সম্মেলনটি শনিবার মিরপুরের জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। উপস্থিত কর্মকর্তারা নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত কৌশল ও ব্যবস্থা তুলে ধরেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখে, নির্বাচনের সময় সারা দেশে ৩৭,০০০েরও বেশি সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বৃহৎ মানবশক্তি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি, দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম কুইক রেসপন্স ফোর্স এবং হেলিকপ্টার ইউনিট সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। এই ইউনিটগুলো জরুরি অবস্থায় দ্রুত স্থানান্তর ও সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম।
ঢাকা সেক্টরের অধীনে ঢাকা ব্যাটালিয়ন (৫ ও ২৬ বিজিবি), নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৬২ বিজিবি) এবং গাজীপুর ব্যাটালিয়ন (৬৩ বিজিবি) সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এই তিনটি ব্যাটালিয়ন ৯টি জেলা ও ৪টি সিটি কর্পোরেশনের মোট ৫১টি আসনে নিরাপত্তা তদারকি করবে।
প্রতিটি ব্যাটালিয়নের অধীনে মোট ১৩৪টি প্লাটুনের ৪২টি অস্থায়ী বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হবে, যেখানে সৈন্যরা ঘূর্ণায়মান শিফটে কাজ করবে। বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রমের জন্য কেজি‑৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত সহায়তার ক্ষেত্রে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর, এপিসি এবং আধুনিক সিগন্যাল ও যোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবহার করবে। এসব সরঞ্জাম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কার্যকর নিরাপত্তা প্রদান করবে।
নির্বাচনী পরিস্থিতি ২৪ ঘন্টা পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর সদর দপ্তরে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল রিয়েল‑টাইম তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
নির্বাচনের দিন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে টহল পরিচালনা করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উপস্থিত থাকবে। টহল দলগুলো নির্বাচনের সময় অশান্তি বা হিংসা রোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এই পদক্ষেপগুলোকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। লেথাল ওয়েপন না ব্যবহার করে কম ফোর্স নীতি অনুসরণ করা নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের আস্থা জোরদার করতে সহায়তা করবে।
সামগ্রিকভাবে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রযুক্তি, মানবশক্তি ও কৌশলগত প্রস্তুতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মসৃণ চলাচল নিশ্চিত করবে।



