বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন শনিবার ঢাকার একটি আইসিটি‑সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে জানালেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি জয়লাভ করলে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল স্থানে ধাপে ধাপে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হবে।
এই বক্তব্যটি ‘আগামীর বাংলাদেশ গঠনে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক সমাবেশে উপস্থাপিত হয়, যেখানে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ড. মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে বিএনপি দেশের নাগরিকদের ক্ষমতায়নকে মূল লক্ষ্য করে কাজ করবে এবং মেধাবী তরুণদের জন্য উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে।
আইসিটি সেক্টরে ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য দলটি ইতিমধ্যে ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা মেটাতে পেপালকে বাংলাদেশে আনতে উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও জানান, পেপাল চালু হলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের প্রতিযোগিতা বাড়বে।
বিনামূল্যে ইন্টারনেটের ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সেবা প্রথমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, সরকারি অফিস এবং অন্যান্য জনসাধারণের ব্যবহৃত স্থানে প্রদান করা হবে। ধীরে ধীরে এই নেটওয়ার্ককে বিস্তৃত করে শহর ও গ্রামাঞ্চলে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ইন্টারনেটের সুবিধা প্রত্যেক নাগরিকের নাগালে আসে।
ড. মাহদী আমিনের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অন্তরায় দূর হবে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং তাই এটি সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
অধিকন্তু, তিনি উল্লেখ করেন, যদি নির্বাচন স্বাধীন, ন্যায়সঙ্গত এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তবে বিএনপি জয়লাভের পর সরকার গঠন করবে। এই শর্তে তিনি পুনরায় জোর দেন যে, দলটি দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তুত।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধির মন্তব্য রেকর্ড করা হয়নি, এবং বর্তমান সরকারী দল থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাই, এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি বিএনপি এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়, তবে দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে এবং ভোটারদের মধ্যে প্রযুক্তি-ভিত্তিক সেবার প্রতি আস্থা বাড়বে। অন্যদিকে, এই ধরনের প্রতিশ্রুতি নির্বাচনকালে ভোটারকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা নিয়ে কিছু সমালোচক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত তারিখে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেবে, এবং সব প্রধান দলই ভোটারকে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন নীতি ও প্রকল্পের ঘোষণা দিচ্ছে। বিএনপি’র এই ইন্টারনেট পরিকল্পনা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে বাস্তবায়িত হবে কিনা তা সময়ই বলবে।



