লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স কাপের চূড়ান্ত ম্যাচে ইংলিশ উইমেন্স সুপার লিগের শিরোপা ধারক আর্সেনাল, দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন করিন্থিয়ান্সের মুখোমুখি হবে। দুই দল আগামী রবিবারের ম্যাচে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, যেখানে আর্সেনাল ইতিমধ্যে এশিয়ান ও আফ্রিকান দলকে পরাজিত করে ফাইনালে পৌঁছেছে।
আর্সেনাল এই সেমিফাইনালে মরক্কোর এএস ফারকে ৬-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। গেটেক কমিউনিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আর্সেনাল দ্রুতই শ্যুটিংয়ে আধিপত্য বিস্তার করে, শেষ পর্যন্ত ছয়টি গোলের পরিষ্কার পার্থক্য বজায় রাখে। এই জয় আর্সেনালের শিরোপা রক্ষার পথে আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে।
এএস ফারের সঙ্গে এই প্রতিযোগিতা ইউরোপীয় ও আফ্রিকান ক্লাবের মধ্যে প্রথম সরকারি প্রতিযোগিতামূলক মুখোমুখি হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত। দুই মহাদেশের ক্লাবের এই প্রথম মুখোমুখি ম্যাচটি মহিলাদের ফুটবলে ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
আর্সেনালের প্রধান কোচ রেনি স্লেগার্স, হিজাব পরিহিত খেলোয়াড় নুহাইলা বেনজিনার উপস্থিতি নিয়ে বিশেষ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ফুটবল সমাজের শক্তি হল, এটি সবার জন্য। হিজাব পরিহিত একজন খেলোয়াড়ের সফলতা দেখিয়ে আমরা সকলের জন্য এই খেলাটিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে পারি।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, বেনজিনার উপস্থিতি আর্সেনালের জন্য শুধু ক্রীড়া দিকেই নয়, সামাজিক দিকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
স্লেগার্স আরও যোগ করেন, “ফুটবলে রোল মডেল থাকা দরকার, যাতে প্রত্যেকেই বুঝতে পারে যে এই মাঠে সবাই অংশ নিতে পারে। নুহাইলা আমাদের জন্য একটি উদাহরণ, যা দেখায় যে সীমা ভাঙা সম্ভব।” তিনি উল্লেখ করেন, হিজাব পরিহিত খেলোয়াড়ের উপস্থিতি কেবল আর্সেনালের জন্য নয়, পুরো নারী ফুটবলের জন্যই একটি ইতিবাচক সংকেত।
কন্টিনেন্টের উন্নয়ন স্তর ভিন্ন হলেও, স্লেগার্সের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা কম উন্নত মহাদেশের ক্লাবগুলোকে তাদের লিগ ও দেশের ফুটবলকে বিশ্ব মঞ্চে উপস্থাপন করার সুযোগ দেয়। তিনি বলেন, “যে দলগুলো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পিছিয়ে আছে, তাদের জন্য এই প্ল্যাটফর্মটি অনেক মূল্যবান। এটি শুধু খেলা নয়, বরং সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করার একটি মাধ্যম।”
করিন্থিয়ান্সের সঙ্গে ফাইনাল ম্যাচে আর্সেনালকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। স্লেগার্স স্বীকার করেন, “আমরা দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নদের সম্মুখীন হতে যাচ্ছি, যা আমাদের জন্য অপরিচিত। আমরা তাদের প্রতি সম্মান ও বিনয় বজায় রাখব, তবে আমাদের আত্মবিশ্বাসও অটুট থাকবে।” তিনি দলকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে এবং অপরিচিত পরিস্থিতিতে শিখতে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেন।
ফাইনালের অপেক্ষা বাড়ছে, উভয় দলই নিজেদের শিরোপা রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর্সেনালের শেষ পর্যন্ত পারফরম্যান্স, কোচের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং নুহাইলা বেনজিনার মত রোল মডেলের প্রভাব এই ম্যাচকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। ফুটবলপ্রেমীরা লন্ডনে অনুষ্ঠিত এই চূড়ান্ত মুখোমুখি দেখার জন্য উদগ্রীব, যেখানে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শীর্ষ দল একে অপরের সঙ্গে লড়াই করবে।



