19 C
Dhaka
Saturday, January 31, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকডিআর কঙ্গো রুবায়া খনি ধসে ২০০-এর বেশি প্রাণহানি, কোলটান উৎপাদন কেন্দ্র

ডিআর কঙ্গো রুবায়া খনি ধসে ২০০-এর বেশি প্রাণহানি, কোলটান উৎপাদন কেন্দ্র

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় নর্থ কিভু প্রদেশের রুবায়া শহরে বুধবার ভারী বৃষ্টির ফলে খনি ধসে ২০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। মাইনটি কোলটান উত্তোলন করত, যা স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের প্রধান উপাদান।

মাটির অতিরিক্ত ভেজা অবস্থায় খনির গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে ভূমিকম্পের মতো ধস ঘটায়। নর্থ কিভু অঞ্চলের বিদ্রোহী শাসকের মুখপাত্র লুমুম্বা কামবেরে মুইসা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ধসের সঠিক সংখ্যা এখনও নির্ধারণ করা যায়নি।

মৃতদেহের তালিকায় নারী ও শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত, যারা পরিবারিক আয়ের জন্য কোলটান উত্তোলন করছিল। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, বেশ কিছু নারী ও ছোট বাচ্চা কাজের সময় ধসে পড়া গর্তে আটকে গিয়ে মারা গেছে।

এই খনি সরকারী অনুমোদন ছাড়া স্বাধীনভাবে কাজ করা শিল্পকর্মী খনির শ্রমিকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তারা কোনো বড় কোম্পানির নিয়মিত কর্মী না হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বীমা থেকে বঞ্চিত। ফলে ধসের পরিণতি তাদের জন্য বিশেষভাবে ভয়াবহ হয়েছে।

একজন প্রাক্তন তত্ত্বাবধায়ক বিবিসি-কে জানান, খনির রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে না করা হয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং উদ্ধার কাজকে কঠিন করে তোলে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাটির নরম প্রকৃতি ও বৃষ্টির প্রভাব একসাথে ধসকে ত্বরান্বিত করেছে।

ধসের পর প্রায় বিশজন বেঁচে গেছেন; তাদের মধ্যে প্রায় বিশজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার শিকার রয়েছে।

একজন আত্মীয়ের শোক প্রকাশে বলা হয়েছে, ধসের ফলে পরিবারে বড় ক্ষতি হয়েছে এবং বহু পরিবার একসাথে শোকাহত। মৃতের পরিবারে দুজন সন্তান ও স্ত্রী বেঁচে আছে, যারা এখন জীবনের নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

মিলিয়নিয়ার গোষ্ঠী M23 কর্তৃক নিয়োজিত গভার্নর এরাস্টো বাহাটি মুসাঙ্গা শুক্রবার ধসের শিকারদের সঙ্গে দেখা করেন এবং আহতদের অবস্থা সম্পর্কে জানেন। তিনি পুনরুদ্ধার কাজের ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।

রুবায়া শহর ও তার আশেপাশের অঞ্চল বর্তমানে M23 বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা রুবায়া ও নর্থ কিভুতে রুয়ান্ডার সমর্থনযুক্ত এই গোষ্ঠীর উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।

রুবায়া অঞ্চলের কোলটান বিশ্ব সরবরাহের প্রায় ১৫% এবং ডিআর কঙ্গোর মোট কোলটান মজুদের অর্ধেকের সমান। এই ধাতু তান্তালাম উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, যা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাপাসিটর তৈরিতে অপরিহার্য। ফলে ধসের ফলে বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব পড়তে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, কোলটান উৎপাদন কেন্দ্রের অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়াতে পারে এবং কঙ্গোর অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা খনিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে মানবিক সংকট বাড়বে।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সংস্থা ইতিমধ্যে রুবায়া অঞ্চলে জরুরি সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা মানদণ্ডের উন্নতি ও খনি পরিচালনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments