সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্ক জনসভার অনুষ্ঠানে শনিবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটের পূর্বে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের ‘গুপ্ত’ বলে চিহ্নিত করার কথা জানান। তিনি উপস্থিত সমাবেশে উল্লেখ করেন, যারা ভোটের আগে মিথ্যা তথ্য ছড়াবে, তাদের একমাত্র নাম ‘গুপ্ত’ হবে, কারণ গত ষোলো বছর ধরে এ ধরনের কোনো মুখোমুখি দেখা যায়নি।
তারা ৫ মে যে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাও তিনি উল্লেখ করেন, যদিও সেই ঘটনার বিশদ প্রকাশ না করলেও, তারেক রহমানের মতে, ঐ ব্যক্তিরা ঐ দিন থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছেন এবং এখনো পুনরায় প্রকাশ পায়নি।
বক্তা আরও বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে, ১৯৮৬ এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনগুলোতে এই গোষ্ঠী একই রকম ভূমিকা পালন করেছে। তিনি দাবি করেন, এই গোষ্ঠীর সদস্যরা অতীতের রাজনৈতিক উত্থান-পতনে একসাথে কাজ করেছে, ফলে তাদের পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়।
তারেক রহমানের মতে, বিএনপি একমাত্র দল, যার কাছে দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, অন্য কোনো দল এই পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।
বক্তা সমাবেশে জোর দিয়ে বলেন, দলীয় ঐক্য ও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া না যায়। তিনি অতীতের ষড়যন্ত্রের উদাহরণ তুলে ধরে, ১৬ বছর আগে যারা মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্মরণ করিয়ে দেন।
বিএনপি নেতার এই মন্তব্যের পর, আওয়ামী লীগ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে এমন সতর্কবার্তা দেওয়া সাধারণ প্রবণতা, যা সমর্থকদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে সহায়তা করে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্যের ভিত্তিতে, তিনি ভোটের সময় কোনো গোপন পরিকল্পনা বা গুজব ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তিনি আরও বলেন, দলীয় সদস্যদের উচিত একসাথে কাজ করা এবং ভোটের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় থাকা।
তারেক রহমানের ভাষণে ‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রতি এক ধরনের চিহ্নিতকরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই গোষ্ঠীর কার্যকলাপের ফলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিএনপি নেতার মতে, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সঠিক নেতৃত্বের ওপর, এবং তিনি বিশ্বাস করেন, তার দলই সেই নেতৃত্ব প্রদান করতে সক্ষম। তিনি অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি তুলনা করে, ভোটের সময় সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বক্তা শেষ করে উল্লেখ করেন, যারা মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের স্মরণে রেখে, ভোটের অধিকারকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে চুরি করা যাবে না। তিনি সমাবেশে উপস্থিত সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য একসাথে কাজ করতে আহ্বান জানান।
এই বক্তব্যের পর, সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য বিএনপি নেতারা তারেক রহমানের মতামতকে সমর্থন জানিয়ে, ভোটের সময় সতর্কতা ও ঐক্যের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সকল দলকে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, সিরাজগঞ্জের এই রাজনৈতিক সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য ভোটের পূর্বে বিভ্রান্তিকর প্রচারকারীদের ‘গুপ্ত’ বলে চিহ্নিত করার এবং দলীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান হিসেবে উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সতর্কবার্তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



