জার্মানির ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) এই সপ্তাহে জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের বয়কটের কোনো পরিকল্পনা নেই, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে চাপ বাড়ছে। ডিএফবি উল্লেখ করেছে যে ক্রীড়া একতা ও বিশ্বকাপের বৈশ্বিক প্রভাবকে শক্তিশালী করা তাদের মূল লক্ষ্য, তা বাধা দেওয়া নয়।
ডিএফবির নির্বাহী কমিটি সাম্প্রতিক বৈঠকে বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। এই বিষয়টি প্রথমে ডিএফবির সহ-সভাপতি ও স্টা পাউলি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ওকে গেটলিচের প্রস্তাবের মাধ্যমে উঠে আসে। গেটলিচ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ও কর্মকে উল্লেখ করে বয়কটের বিষয়টি “গুরুতরভাবে বিবেচনা” করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ডিএফবি গেটলিচের প্রস্তাবের প্রতি প্রকাশ্যভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে যে ক্রীড়া নীতি সংক্রান্ত বিতর্ক অভ্যন্তরীণভাবে হওয়া উচিত, জনসমক্ষে নয়। ফেডারেশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে বয়কট “বর্তমানে কোনো আলোচনার বিষয় নয়” এবং টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির জন্য রাজনৈতিক, নিরাপত্তা, ব্যবসা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় চলছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ ইউরোপে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণের প্রচেষ্টা, ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি, ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে প্রতিবাদ মোকাবেলায় কঠোর পদক্ষেপ—all এই বিষয়গুলো ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রাক্তন ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারও বিশ্বকাপের আগে ভক্তদের টুর্নামেন্ট থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, যা ১১ জুন থেকে শুরু হবে। ব্ল্যাটারের মন্তব্য ডিএফবির বয়কট না করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যদিও তিনি সরাসরি কোনো নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেননি।
জার্মানির আন্তর্জাতিক ফুটবলে বায়ার্ন মিউনিখের মিডফিল্ডার লিয়ন গোরেটজকা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজকে নিয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। গোরেটজকা উল্লেখ করেছেন যে ট্রাম্পের আচরণ তাকে “শুধু জার্মান নয়, ইউরোপীয়ও” করে তুলেছে, যা তার ক্রীড়া ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উভয়কেই প্রভাবিত করেছে।
ফ্রান্সের সরকারও একই সময়ে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রী মারিনা ফেরারির মতে, “বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের কোনো বয়কটের ইচ্ছা নেই” এবং টুর্নামেন্টকে “মহান প্রতিযোগিতা” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এই মন্তব্য ফ্রান্সের ক্রীড়া নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়।
ডিএফবির সিদ্ধান্তের পেছনে ক্রীড়া সংস্থাগুলোর ঐক্যবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, যা বিশ্বকাপকে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব ও সমঝোতার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে, জার্মানির ফুটবল সংস্থা ক্রীড়া ক্ষেত্রের স্বতন্ত্রতা রক্ষার জন্য বয়কটের পরিবর্তে প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চলাকালীন ডিএফবি বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে তুলেছে, যাতে টুর্নামেন্টের সময় কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়া এই ইভেন্টের জন্য জার্মান দলের অংশগ্রহণ ও ভক্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে, যা ক্রীড়া ও সংস্কৃতির আদানপ্রদানের সুযোগ দেবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা অব্যাহত থাকলেও, ডিএফবির বয়কট না করার সিদ্ধান্ত ক্রীড়া ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে সীমিত রাখার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ক্রীড়া সংস্থাগুলো কীভাবে রাজনৈতিক চাপের মুখে তাদের নীতি নির্ধারণ করবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।



