শিবপুর, শিবপুর ইউনিয়ন, সাতক্ষীরা – শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালবেলায় টমেটো ক্ষেতের চারপাশে স্থাপিত বিদ্যুৎ সংযুক্ত ফাঁদে দুজনের প্রাণ শেষ হয়। শিবপুর এলাকায় ইঁদুরের আক্রমণ বাড়ার ফলে কৃষক মনিরুল ইসলাম নিজস্ব ফসল রক্ষার জন্য বিদ্যুৎ তার ব্যবহার করেন; তবে তার পা তারে আটকে যাওয়ায় তিনি তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান। তার পাশে থাকা প্রতিবেশীও তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করার সময় একই ঘটনার শিকার হন।
মৃত্যুপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৫ বছর বয়সী মনিরুল ইসলাম, তেতুলতলা গ্রামের প্রাক্তন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রজব আলীর পুত্র, এবং ৩৫ বছর বয়সী আব্দুর রহিম, শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের নুর ইসলামের পুত্র অন্তর্ভুক্ত। উভয়ই স্থানীয় কৃষক, যাঁরা টমেটো চাষে যুক্ত ছিলেন।
মনিরুলের নিজস্ব টমেটো ক্ষেতের আশেপাশে ইঁদুর ও শিয়াল থেকে ফসল রক্ষা করতে তিনি বিদ্যুৎ তারের সঙ্গে অবৈধভাবে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন করেন। এই ব্যবস্থা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে প্রায়ই ব্যবহৃত হয়, তবে আইন অনুসারে বৈদ্যুতিক সংযোগের জন্য অনুমোদিত লাইসেন্স ও নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
সকালবেলায় মনিরুল যখন নিজের ক্ষেত থেকে টমেটো তোলার জন্য গিয়ে তারের কাছে পৌঁছান, তখন তার পা অপ্রত্যাশিতভাবে তারে আটকে যায়। তৎক্ষণাৎ তার দেহে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে গুরুতর আঘাত পায়। শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, মনিরুলের পা আটকে যাওয়ার মুহূর্তে তিনি তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রতিবেশী, যিনি মনিরুলকে তাড়াতাড়ি সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন, তিনি একই সময়ে বিদ্যুৎ শকের শিকার হন। প্রতিবেশীকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তার জীবন রক্ষা করা যায়নি। ফলে দুইজনেরই মৃত্যুর খবর শিবপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান নিশ্চিত করেন।
সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমানের মতে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশ দল দ্রুত প্রাথমিক তদন্ত চালায় এবং দুইজনের মৃত্যু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ফলাফল বলে জানায়। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে বিদ্যুৎ সরবরাহের অবৈধ সংযোগের চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে, যা তদন্তের মূল দিক হবে।
আবুল কালাম আজাদও জানান, মনিরুলের টমেটো ক্ষেতের চারপাশে তিনি যে বৈদ্যুতিক তারটি ব্যবহার করছিলেন, তা বৈদ্যুতিক সংযোগের অনুমোদন ছাড়া সরাসরি বিদ্যুৎ লাইনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তিনি বলেন, এই ধরনের অবৈধ সংযোগের ফলে শুধু ফসলই নয়, মানুষের জীবনও বিপন্ন হয়।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগের জন্য বিদ্যুৎ আইন ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের শাস্তি প্রযোজ্য। শিবপুর থানার তদন্ত দল এখন ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, বিদ্যুৎ সংযোগের রেকর্ড পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক ফরেনসিক বিশ্লেষণের পর মামলাটি স্থানীয় আদালতে পাঠানো হবে।
প্রতিবেশী ও পরিবারকে শোকাহত করার পাশাপাশি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে। শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবিষ্যতে কৃষকদের জন্য নিরাপদ ফসল রক্ষার বিকল্প ব্যবস্থা, যেমন মানবিক ফাঁদ বা অনুমোদিত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে।
এই ঘটনার পর, শিবপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের অবৈধতা ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর প্রয়োগের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সমন্বয় বাড়ানো হবে। তদন্তের ফলাফল ও আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত জানার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি অপেক্ষা করা হচ্ছে।



