19 C
Dhaka
Saturday, January 31, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন পানিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিযুক্ত

ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন পানিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিযুক্ত

সরকার বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ‑১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব জেতি প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনকে পানিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিযুক্ত করেছে। এই পদোন্নতি সরকারি ব্যুরোক্রেটিক কাঠামোর সাম্প্রতিক পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে। নতুন সচিবের দায়িত্বে থাকবে দেশের জলসম্পদ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন তদারকি।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন (পরিচয় নম্বর ৬৩৫৯) বর্তমানে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) পদে কর্মরত। তার পূর্ববর্তী দায়িত্বে তিনি একাডেমির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করতেন। এখন তাকে পানিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে বদলিপূর্বক পদায়ন করা হয়েছে।

ড. শাহাবুদ্দিনের পূর্বের পদবী ও কর্মস্থল উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তিনি রেক্টর (সচিব) হিসেবে একাডেমির শীর্ষ প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করছিলেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন দায়িত্বে তিনি মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করবেন।

প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী, ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনের পদোন্নতি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তিনি আজই অফিসে গিয়ে তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নেবেন। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যোগাযোগে দ্রুত পরিবর্তন প্রত্যাশিত।

একই শাখার আরেকটি প্রজ্ঞাপনে পরিবেশ বিভাগ (পরিবেশ অধিদপ্তর) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. কামরুজ্জামানকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) পদে নির্ধারিত করা হয়েছে। এই নিয়োগটি ড. শাহাবুদ্দিনের পূর্ববর্তী পদে তার পরিবর্তনকে সম্পূরক করে। ফলে একাডেমির শীর্ষ নেতৃত্বে দুইজন নতুন মুখের সমন্বয় হবে।

ড. কামরুজ্জামান পরিবেশ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পরিবেশ নীতি ও প্রকল্প তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন। তার নতুন দায়িত্বে তিনি একাডেমির শিক্ষাগত ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করবেন। এই পরিবর্তন পরিবেশ ও জলসম্পদ সংক্রান্ত আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

পানিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বর্তমানে দেশের জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা ও খরা মোকাবিলার জন্য বহু প্রকল্প চালু করেছে। নতুন সচিবের দায়িত্বে থাকবে এই প্রকল্পগুলোর ত্বরান্বিত বাস্তবায়ন এবং তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা। সরকার এই পদবিন্যাসকে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছে।

বাংলাদেশের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা বহুবার বন্যা ও খরা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, যা অর্থনৈতিক ক্ষতি ও মানবিক দুর্যোগের কারণ হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সঠিক নীতি ও সমন্বয় এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অপরিহার্য। ড. শাহাবুদ্দিনের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও একাডেমিক পটভূমি এই ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিকোণ আনতে পারে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, নতুন সচিবের দায়িত্বে থাকবে নদী পুনর্নবীকরণ, জলসংগ্রহ প্রকল্প এবং শুষ্ক অঞ্চলের সেচ ব্যবস্থা উন্নয়ন। এছাড়া, আন্তর্জাতিক জলসম্পদ সহযোগিতা ও তহবিল সংগ্রহেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এসব উদ্যোগের সাফল্য মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা ও সরকারের জল নীতি প্রয়োগের ক্ষমতা নির্ধারণ করবে।

পানিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে ড. শাহাবুদ্দিনকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট করতে হবে। তার কাজের মধ্যে থাকবে নীতি প্রণয়ন, বাজেট পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়। এই কাঠামোগত পরিবর্তন সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সময়ে পরিবেশ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের পদ থেকে ড. কামরুজ্জামানকে একাডেমির রেক্টর পদে স্থানান্তর করা হয়েছে, যা পরিবেশ ও জলসম্পদ সংক্রান্ত গবেষণা ও প্রশিক্ষণকে একত্রিত করার লক্ষ্য রাখে। একাডেমি এখন পরিবেশ ও জলসম্পদ উভয় ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের জন্য একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এই সমন্বয় নীতি-নির্ধারকদের জন্য প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তথ্য সরবরাহে সহায়তা করবে।

সরকারের এই ব্যুরোক্রেটিক পুনর্গঠনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, যা আসন্ন মৌসুমে জলসম্পদ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের প্রস্তুতি নির্দেশ করে। নতুন সচিবের দায়িত্বে থাকবে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ত্বরান্বিত করা। ফলে, ভবিষ্যতে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আইনগত কাঠামো আরও শক্তিশালী হতে পারে।

ড. শাহাবুদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান বড় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, দেশের প্রধান নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও শুষ্ক অঞ্চলের সেচ প্রকল্পে নতুন নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই প্রকল্পগুলোর সাফল্য দেশের কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

সারসংক্ষেপে, ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনের পানিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নিযুক্তি এবং ড. কামরুজ্জামানের একাডেমি রেক্টর পদে পরিবর্তন সরকার

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments