সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দিঘীরপাড়ি ইউনিয়নের কুয়োর মাঠে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ত্রিস্তরী ভবন থেকে শুক্রবার রাত প্রায় ১০টায় ২৫টি পাওয়ার জেল এবং ২৭টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব‑৯ এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই যন্ত্রগুলো উচ্চক্ষমতার বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রী নিয়ে কোনো সন্দেহভাজন ধরা বা তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, কুয়োর মাঠের আশেপাশে গোপনভাবে বিস্ফোরক সংরক্ষণের খবর পাওয়ার পর অভিযানিক দল দ্রুত现场ে পৌঁছে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় ভবনের ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ২৫টি পাওয়ার জেল এবং ২৭টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর পাওয়া যায়। এই যন্ত্রপাতি সাধারণত উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান হিসেবে পরিচিত।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীগুলোকে “উচ্চক্ষমতার বিস্ফোরক” হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে সংরক্ষণ করা বেআইনি বলে র্যাবের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে এই বস্তুগুলো কানাইঘাট থানা‑তে হস্তান্তর করা হয়েছে যাতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। র্যাব‑৯ এর তদন্ত দল বিষয়টি নিয়ে বিশদ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
এই ঘটনার পূর্বে, ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জৈনপুর শিববাড়ী রেললাইন সংলগ্ন পুরনো শৌচাগার থেকে ছয়টি পাওয়ার জেল এবং পাঁচটি নন‑ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছিল। র্যাবের সূত্রে ঐ সামগ্রীগুলো ভারতীয় উৎপত্তির বলে দাবি করা হয়েছে। উভয় ঘটনায় পাওয়া বিস্ফোরক সামগ্রী একই ধরণের এবং সম্ভাব্যভাবে একই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
বিস্ফোরক সংরক্ষণ ও ব্যবহার বাংলাদেশে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনে শাস্তি নির্ধারিত। র্যাব‑৯ এবং স্থানীয় পুলিশ এখন পর্যন্ত যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে সংগ্রহিত সামগ্রীগুলোকে ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য বিশেষ ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে, অবৈধ বিস্ফোরক সামগ্রী সংরক্ষণ, পরিবহন বা ব্যবহারকারীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ হিসেবে র্যাব‑৯ দল স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুলের কর্মী এবং আশেপাশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার নিয়ে তথ্য সংগ্রহ চালিয়ে যাবে। এছাড়া, পূর্বে উদ্ধার করা সামগ্রীগুলোর উৎপত্তি ও সরবরাহ চেইন অনুসন্ধানের জন্য আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই ধরনের অবৈধ সামগ্রীকে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে জোর দিয়েছে।
সিলেটের এই দুইটি পৃথক স্থান থেকে একই ধরনের বিস্ফোরক উপাদান পাওয়া যায়, যা র্যাব‑৯ এর সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে। তদন্ত চলাকালীন সময়ে কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের সূচক পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা এবং সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বিত কাজের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।



