ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামের হারবার স্ট্র্যান্ডে ৩১ জানুয়ারি বিশ্বপ্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। জুজা ডব্রাচকোসের দ্বিতীয় ফিচার ‘Accept Our Sincere Apologies’ শিরোনামের চলচ্চিত্রটি ভেনিসের এক মহৎ হোটেলে একাকিত্ব ও পরিচয়ের অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে।
ফিল্মটি সম্পূর্ণ কালো-সাদা রঙে নির্মিত এবং থ্রিলার‑ড্রামা শৈলীর মিশ্রণ। স্বপ্নময় দৃশ্যাবলি ও তীব্র ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা দর্শকের মনোযোগকে আকর্ষণ করে, একই সঙ্গে গল্পের গূঢ়তা বাড়ায়।
ভেনিসের ঐতিহ্যবাহী হোটেলকে এক বিশাল সোনার পিঞ্জর হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। হোটেলের বিলাসবহুল পরিবেশ সত্ত্বেও, সেখানে বাস করা মানুষ ও কর্মীরা এক ধরণের অন্তর্নিহিত একাকিত্বের জালে আটকে থাকে। এই পিঞ্জর থেকে পালানোর আকাঙ্ক্ষা চলচ্চিত্রের মূল চালিকাশক্তি।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার ইভা, যিনি অতিথিদের প্রত্যেকটি ইচ্ছা পূরণে নিযুক্ত। তবে তার কাজের মধ্যে একটি অদ্ভুত আকর্ষণ জন্ম নেয়, যখন তিনি কন্টেসা নামের এক রহস্যময় নারীর সঙ্গে পরিচিত হন। ইভা এবং কন্টেসার সম্পর্ক গল্পের গূঢ়তা বাড়ায়।
কন্টেসা চরিত্রটি ফিনল্যান্ডের অভিনেত্রী ক্রিস্টা কোসোনেন অভিনয় করেছেন। তার উপস্থিতি হোটেলের গথিক পরিবেশে এক অতিপ্রাকৃত ছোঁয়া যোগায়, যা দর্শকের কল্পনাকে উস্কে দেয়।
চিত্রে বেশিরভাগ ভূমিকা অ-প্রফেশনাল অভিনেতাদের হাতে দেওয়া হয়েছে। পোল্যান্ডের জোড়া ভ্রাতারা—অস্কার ও কাসপার গ্রেজেলাক—ইভা এবং তার মৃত যমজের ভৌতিক দৃষ্টান্তে অভিনয় করেছেন। এই জোড়া অভিনয় জোড়া চরিত্রের দ্বৈততা ও অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষকে জোরালোভাবে তুলে ধরে।
নির্দেশক জুজা ডব্রাচকোসের জন্ম সোভিয়েত ইউনিয়নে, এবং তিনি মস্কো, প্যারিস, লস এঞ্জেলেস, লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসের পর ভেনিসে স্থায়ী হয়েছেন। তার পূর্বের কাজের মধ্যে ‘Bebia’ ও ‘à mon seul désir’ অন্তর্ভুক্ত, যা তাকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
‘Accept Our Sincere Apologies’ এর চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও প্রযোজনা সবই ডব্রাচকোসেরই হাতে। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন ভেরোনিকা সোলোভ্যেভা, আর সম্পাদনা কাজ করেছেন আন্দ্রে ক্লিচনিকভ। এই প্রযুক্তিগত দিকগুলো চলচ্চিত্রের গথিক ও স্বপ্নময় টোনকে সমর্থন করে।
চলচ্চিত্রের বিক্রয় কাজ পরিচালনা করছে Atoms & Void, এবং প্রযোজনা সংস্থা Twice a Day এর সহযোগিতায় এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়েছে। এই সংস্থাগুলোর সমর্থনে চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছে।
ফিল্মের মূল থিম একাকিত্ব, পরিচয় অনুসন্ধান এবং অতীতের দুঃখের সঙ্গে লড়াই। ইভার অভ্যন্তরীণ গিল্ট, ট্রমা ও আত্মার দানবগুলোকে তিনি দমন করার চেষ্টা করেন, তবে হোটেলের পিঞ্জর থেকে মুক্তি পেতে তার সংগ্রাম অব্যাহত থাকে।
ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামের ওয়েবসাইট চলচ্চিত্রটিকে ‘একটি হিপনোটিক গথিক ফ্যান্টাসি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা দর্শককে মুগ্ধ ও অস্থির করে। এই প্রশংসা চলচ্চিত্রের শিল্পগত মানকে তুলে ধরে।
চলচ্চিত্রটি মৃত্যুর পরেও স্বাধীনতা ও আত্মমুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে। দর্শকরা এই কালো-সাদা ভিজ্যুয়াল যাত্রার মাধ্যমে মানবিক একাকিত্বের গভীরতা অনুভব করতে পারবেন এবং নিজের জীবনের পিঞ্জর থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা করতে পারবেন।



