২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় ঢাকা শহরের বাংলামোটরে অবস্থিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের নতুন গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রকাশনা দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো বিশ্লেষণ করে, শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত।
অনুষ্ঠানের প্রধান আয়োজক বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, যা দেশের জ্বালানি নীতি ও নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা পালন করে। কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং উদ্বোধনী ভাষণে বইয়ের বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি বইয়ের প্রকাশনা প্রক্রিয়া ও গবেষণার পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন, যা উপস্থিত শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের জন্য নির্দেশনামূলক।
অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও উপস্থিত ছিলেন। তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও যুব নীতি সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন, যা বইয়ের বিশ্লেষণকে সমৃদ্ধ করে। তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও আলোচনায় অংশ নেন, ফলে পরিবেশ নীতি ও সামাজিক পরিবর্তনের সংযোগ স্পষ্ট হয়।
অতিরিক্তভাবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুবউল্লাহ, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। তাদের সমন্বিত উপস্থিতি বইয়ের বহুমাত্রিক বিশ্লেষণকে সমর্থন করে এবং নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে একসঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করে।
বইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন পাঠক, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরকে আমন্ত্রণ জানায়, যাতে তারা সরাসরি লেখকের সঙ্গে মতবিনিময় করতে পারে। এই ধরনের প্রকাশনা-উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগায় এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণা বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ করে।
ড. ফাওজুল কবির খান, যিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন, তার এই গ্রন্থে বাংলাদেশের সামাজিক গঠন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং নীতি পরিবর্তনের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তিনি পূর্বে বহু গবেষণা পত্র ও নীতি প্রস্তাবনা প্রকাশ করেছেন, যা সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার কাজে ব্যবহার হয়েছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে এই গ্রন্থের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি তাত্ত্বিক ধারণাকে বাস্তব উদাহরণে রূপান্তরিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতিবিদ্যা এবং পাবলিক পলিসি বিভাগে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীরা দেশের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারবে।
অন্তে, যারা এই বইটি সংগ্রহ করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: বইয়ের মূল ধারণা ও বিশ্লেষণকে নোটে সংক্ষেপে রেকর্ড করুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর অতিরিক্ত গবেষণা করুন। এভাবে পাঠের পরে বিষয়ের গভীরতা বাড়বে এবং একাডেমিক আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ সম্ভব হবে।
আপনার কি মনে হয়, বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনকে বোঝার জন্য এই ধরনের গবেষণা গ্রন্থ কতটা প্রয়োজনীয়? আপনার মতামত মন্তব্যে জানিয়ে দিন।



