ঢাকার আগারগাঁয়ে শনিবার সকালে ‘সুলতানার স্বপ্ন: শিক্ষার্থীসম্পৃক্ত সৃজনশীল পাঠ’ শিরোনামে একটি গ্রন্থপাঠ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রওনক জাহান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রথমে বইটির মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সুলতানা যে স্বপ্ন দেখেছেন, তাতে তিনি হাস্যরসের মাধ্যমে পুরুষ ও নারীর ভূমিকা কীভাবে পরিবর্তন করা যায় তা প্রকাশ করতে চেয়েছেন’। তার কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, বইটি সামাজিক নিয়মের সীমা ভাঙার চেষ্টা করে এবং তরুণদেরকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
অধ্যাপক রওনক জাহান তার নিজের শৈশবের স্মৃতি শেয়ার করে বলেন, প্রায় সাত দশক আগে তিনি শোনেন যে মেয়েদের ঘরের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, আর ছেলেরা বহিরঙ্গনে কাজ করতে পারে। সেই সময়ের এই ধারণা তিনি ‘মেয়েদের স্বপ্ন দমিয়ে রাখার’ একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আজকের সময়ে এই পুরনো ধারণা আর প্রাসঙ্গিক নয় এবং নতুন প্রজন্মকে পুরনো সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হতে হবে।
বইটির মূল বার্তা হল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাহায্যে মেয়েরাও যুদ্ধের মাঠে সমানভাবে অংশ নিতে পারে। রওনক জাহান ব্যাখ্যা করেন, ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গল্পে মেয়েরা কিভাবে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার করে সমাজে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে তা দেখানো হয়েছে। এভাবে তিনি শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করেন যে, লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা নির্ধারণের পরিবর্তে ক্ষমতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।
অনুষ্ঠানে রওনক জাহানের বোন রওশন জাহান, যিনি ১৯৮৮ সালে আমেরিকান ফেমিনিস্ট প্রেস থেকে প্রকাশিত মূল গ্রন্থের সম্পাদনা করেছেন, তার কপি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে হস্তান্তর করা হয়। রওশন জাহান উল্লেখ করেন, এই বইটি প্রথম প্রকাশের পর থেকে বহু দেশে পাঠকদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এখন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করছে। হস্তান্তরের সময় তিনি বইটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় এর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউনেসকোর বিশেষ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ, শীর্ষ শৈল্পিক পুরস্কার বিজয়ী নিশাত মজুমদার এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই বইটির সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রভাবকে স্বীকৃতি দিয়ে উপস্থিতি জানিয়ে উৎসাহ প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের শেষে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব মফিদুল হক উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত করেন।
এই ধরনের গ্রন্থপাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই নয়, সমাজের কাঠামোগত পরিবর্তন সম্পর্কেও সচেতন হয়। রওনক জাহানের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, লিঙ্গভিত্তিক সীমাবদ্ধতা ভাঙা এবং নতুন সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা এখন শিক্ষার অপরিহার্য অংশ।
আপনার সন্তান বা শিক্ষার্থীরা কি এমন কোনো বই বা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে যা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করে? পরিবার ও স্কুলের মেলবন্ধনে এমন উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।



