মহারাষ্ট্রের নতুন উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে যাচ্ছেন সুনেত্রা পাওয়ার, যিনি সম্প্রতি উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত তার স্বামী অজিত পাওয়ারকে অনুসরণ করছেন। শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নির্ধারিত হলেও, পাওয়ার পরিবারকে কোনো পরামর্শ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রধান শারদ পাওয়ার জানান।
বারামতিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শারদ পাওয়ার উল্লেখ করেন, তিনি মিডিয়া সূত্র থেকে শপথ গ্রহণের খবর জানেন এবং অজিত পাওয়ারকে উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কি না সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তিনি এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানাতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন।
অজিত পাওয়ার ২০২৩ সালের বুধবার পুনের বারামতি বিমানবন্দরে মুম্বাই থেকে বারামতি যাওয়ার পথে একটি ছোট ভিএসআর ভেঞ্চারস উড়োজাহাজে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করার সময় দুর্ঘটনায় মারা যান। এই দুর্ঘটনায় পাইলট সুমিত কাপুর, সহ-পাইলট শম্ভবী পাঠক, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিদিপ যাদব এবং বিমানবালা পিংকি মালিওসহ মোট সাতজনের প্রাণ শেষ হয়।
অজিতের আকস্মিক মৃত্যুর ফলে দলের নেতৃত্ব ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে শূন্যতা দেখা দেয়, ফলে এনসিপি দ্রুত তার স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়। শারদ পাওয়ার উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তে পারিবারিক মতামত নেওয়া হয়নি এবং তিনি নিজে মিডিয়া থেকে তথ্য পেয়ে এই বিষয়টি জানেন।
অজিতের রাজনৈতিক যাত্রা ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তার চাচার সঙ্গ ত্যাগ করে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার পর পরিবার ও দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। তবে এনসিপি (এসপি) নেতা অঙ্কুশ কাকাদে জানান, অজিত শেষ মুহূর্তে উভয় পক্ষের পুনর্মিলন চেয়েছিলেন।
শারদ পাওয়ার ১২ ডিসেম্বর তার জন্মদিনে দলের দুই শাখাকে একত্রিত করার প্রচেষ্টা চালান, তবে তা সফল হয়নি। অজিতের শেষ ইচ্ছা ছিল যে পার্টির প্রবীণ নেতারা শারদকে মধ্যস্থতা করে এনসিপির দুই গোষ্ঠীকে এক ছাতার নিচে আনবে। তার এই অনুরোধের পরেও দলীয় বিভাজন অব্যাহত থাকে।
সুনেত্রা পাওয়ার উপমুখ্যমন্ত্রী হলে তিনি মহারাষ্ট্রের প্রথম নারী উপমুখ্যমন্ত্রী হবেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক। তার শপথ গ্রহণের পর পার্টির অভ্যন্তরে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বর্তমানে এনসিপি নেতা জয়ন্ত পাতিল এই একীকরণ প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে আছেন এবং উভয় গোষ্ঠীর সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করছেন।
শারদ পাওয়ার উল্লেখ করেন, অজিতের মৃত্যুর পর দলীয় কাঠামো পুনর্গঠন করা জরুরি, যাতে সরকারের কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। তিনি আরও জানান, সুনেত্রা পাওয়ারকে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে স্থাপন করা দলীয় শূন্যতা পূরণে সহায়ক হবে এবং রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্মে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সুনেত্রা পাওয়ার উপমুখ্যমন্ত্রী পদ গ্রহণের ফলে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে এবং এনসিপি-কে ভোটারদের কাছে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করার সুযোগ দেবে। তবে দলীয় অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং পারিবারিক মতামতের স্বীকৃতি না পাওয়ার ফলে কিছু সমালোচনা অবশ্যম্ভাবী।
শাপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানটি বারামতি শহরে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে রাজ্যের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সুনেত্রা পাওয়ারকে যদি শাপথ গ্রহণের পর উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয়, তবে তিনি মহারাষ্ট্রের প্রথম নারী হিসেবে ইতিহাস রচনা করবেন।
এই পদক্ষেপের ফলে এনসিপি-র রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হবে কিনা, তা পরবর্তী সময়ে পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং রাজ্যের ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে দলীয় নেতৃত্ব একীভূত করার জন্য বিভিন্ন আলোচনা চলছে, এবং শারদ পাওয়ার ও জয়ন্ত পাতিলের নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।



