প্রিয়দর্শনকে নতুন হরর-কমেডি সিক্যুয়েল “ভূত পুলিশ ২”-এর দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ২০২১ সালের প্রথম ভাগের পরবর্তী অধ্যায় হিসেবে পরিকল্পিত এবং পরিচালকের জন্য প্রায় ২১ কোটি রুপি ফি নির্ধারিত হয়েছে। এই পদক্ষেপে ফ্র্যাঞ্চাইজের সৃজনশীল দিকনির্দেশে প্রিয়দর্শনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্য প্রকাশ পায়।
সিক্যুয়েলের প্রধান চরিত্রে পূর্বের দুই নায়ক সাইফ আলি খান ও অর্জুন কাপুরের নাম নেই। তাদের পরিবর্তে নতুন দুজন অভিনেতা—একজন সিনিয়র এবং একজন জুনিয়র—কে জোড়া হিসেবে চূড়ান্ত করা হবে। এই পরিবর্তনটি পুরো কাস্টকে পুনর্গঠন করার অংশ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য নতুন রসিকতা ও ভৌতিক পরিবেশের সমন্বয় আনবে।
প্রকল্পের মূল ধারণা হল হরর-কমেডি শৈলীর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে থিয়েটারিকাল টাচ যোগ করা। নতুন জুটি দুজনের পারস্পরিক রসিকতা ও ভয়ানক দৃশ্যের সমন্বয়কে কেন্দ্র করে স্ক্রিপ্ট গড়ে তোলা হবে, যাতে ঘরোয়া ও বড় পর্দায় উভয়েই আকর্ষণীয় হয়। এই পদ্ধতি পূর্বের ছবির হালকা-ফুলকা ভৌতিক শৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও আরও নাট্যিক মাত্রা যুক্ত করবে।
মৌলিক “ভূত পুলিশ” ছবিটি পাভন কিরপালানি পরিচালিত এবং সাইফ আলি খান, অর্জুন কাপুর, জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ ও ইয়ামি গৌতমের অভিনয়ে ২০২১ সালে মুক্তি পায়। ছবিটি ভৌতিক শিকারের পেছনে হাস্যরসের মিশ্রণকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছিল এবং মুক্তির পর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
প্রথম ছবির হালকা-ফুলকা পদ্ধতি ও আকর্ষণীয় চরিত্রগুলো দর্শকদের মন জয় করেছে, ফলে সিক্যুয়েল তৈরির চাহিদা বাড়ে। বিশেষ করে তরুণ দর্শকগোষ্ঠী ভৌতিক উপাদানকে কমেডি দিয়ে মিশ্রিত করার এই ফরম্যাটকে প্রশংসা করেছে। এই সাফল্যই নতুন সিক্যুয়েলের জন্য উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
প্রিয়দর্শনের নামটি হরর-কমেডি শৈলীর সঙ্গে যুক্ত নয়, তবে তিনি “হেরা ফেরি”, “হুংগামা” এবং “হুলচুল” মত কমেডি-ড্রামা ছবিতে সফলতা অর্জন করেছেন। তার বহুমুখী পরিচালনাশৈলী ও বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি ফ্র্যাঞ্চাইজকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হচ্ছে।
একই সময়ে প্রিয়দর্শন দুইটি অন্য প্রকল্পেও কাজ করছেন। “ভূত বাংলা” এবং “হাইওয়ান” শিরোনামের দুটি চলচ্চিত্র ২০২৬ সালের মধ্যে মুক্তি পাবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই দুই প্রকল্পের মধ্যে “ভূত বাংলা” বিশেষভাবে নজর কেড়েছে, কারণ এতে একশে কুমারকে প্রধান ভূমিকায় রাখা হয়েছে।
“ভূত বাংলা” ইতিমধ্যে থিয়েটারিকাল রিলিজের তারিখ নিশ্চিত করেছে এবং এটি একশে কুমার ও প্রিয়দর্শনের দশকের বেশি সময়ের পরের পুনর্মিলন হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই পুনর্মিলনটি বলিউডের ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, কারণ দুজনের পূর্বের সহযোগিতা বহু হিট সিনেমার মাধ্যমে স্মরণীয় হয়েছে।
“হাইওয়ান” প্রকল্পটি বিজ্ঞান-ফ্যান্টাসি শৈলীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা প্রিয়দর্শনের সৃজনশীল পরিসরকে আরও বিস্তৃত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উভয় ছবিই ২০২৬ সালের মধ্যে দর্শকের সামনে উপস্থাপিত হবে, ফলে প্রিয়দর্শনের কাজের পরিসর এই বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
প্রিয়দর্শনের নতুন সিক্যুয়েল “ভূত পুলিশ ২”-এর শুটিং ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং প্রযোজক দল দ্রুতই কাস্টিং ও স্ক্রিপ্ট চূড়ান্ত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। নতুন জুটির নির্বাচন ও থিয়েটারিকাল উপাদানের সংযোজনের মাধ্যমে ছবিটি পূর্বের সাফল্যের চেয়েও বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করতে চায়।
সামগ্রিকভাবে, হরর-কমেডি ধারার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন কাস্ট ও নাট্যিক উপাদানের সংযোজন চলচ্চিত্রকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে। দর্শকরা এখনই প্রত্যাশা করতে পারেন যে “ভূত পুলিশ ২” হালকা-ফুলকা ভৌতিক হাস্যরসের সঙ্গে নতুন রোমাঞ্চের স্বাদ যোগ করবে।



