ভালসাদ শহরের রাজহাঁস মাল্টিপ্লেক্সে সকাল ৯টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল ‘বর্ডার ২’ ছবির শো, তবে স্ক্রিনের সামনে অবস্থিত প্লাস্টার‑অফ‑প্যারিস সিলিংয়ের একটি অংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ে শোটি বাতিল করা হয়। এই ঘটনার ফলে সিনেমা হলের ভিতরে প্রবেশের পথে থাকা দর্শকরা আতঙ্কে পড়ে, তবে কোনো শারীরিক ক্ষতি রিপোর্ট করা যায়নি।
সকালবেলা ৯টায় শো শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চলাকালীন, স্ক্রিনের সামনে থাকা সিলিংটি হঠাৎ ভেঙে গিয়ে স্ক্রিন ১-এর ভিতরে পড়ে। সিলিংয়ের এই অংশটি প্লাস্টার‑অফ‑প্যারিস দিয়ে তৈরি ছিল এবং ভাঙার সময় কিছু গুঁড়ো ধুলো ও ছোট টুকরো ছড়িয়ে পড়ে, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
দর্শকরা যখন হলের প্রবেশদ্বার দিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল, তখনই সিলিং ধসে পড়ার শব্দ শোনা যায়। তৎক্ষণাৎ সিনেমা হলের কর্মীরা জরুরি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শোটি বন্ধ করে দেয় এবং সকল দর্শককে নিরাপদে বের করে আনে। এই সময়ে কিছু দর্শক দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, সিলিংয়ের ধসে পড়া অংশটি বড় কোনো গঠনগত ক্ষতি না করে, ফলে বড় দুর্ঘটনা রোধ হয়।
সাময়িকভাবে হলের ভিতরে প্রবেশের কাজ চলছিল, তাই দর্শকসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এই কারণে কোনো আঘাত বা প্রাণহানি ঘটেনি। সিলিং ধসে পড়ার পরপরই নিরাপত্তা কর্মীরা দর্শকদের একে একে বের করে নিয়ে যায় এবং হলটি নিরাপদে বন্ধ করা হয়।
সিনেমা হলের ব্যবস্থাপনা তৎক্ষণাৎ শোটি বাতিল করে এবং দর্শকদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য জরুরি পরিকল্পনা কার্যকর করে। ঘটনাস্থলটি দ্রুত সুরক্ষিত করা হয় এবং পরবর্তীতে কোনো অতিরিক্ত ঝুঁকি না থাকে তা নিশ্চিত করা হয়।
এই ঘটনার পর সিনেমা হলের নিরাপত্তা ও কাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বিশেষ করে পুরনো বা অধিক ব্যবহৃত ভবনগুলোর ক্ষেত্রে। সিলিংয়ের ধসে পড়া দেখিয়ে দেয় যে, নিয়মিত কাঠামোগত পরিদর্শন এবং রক্ষণাবেক্ষণ না করলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, যা দর্শকদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
স্মরণীয়ভাবে, ১৯৯৭ সালের ১৩ জুন দিল্লির আপহার সিনেমা হলের আগুনে ৫৯ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক লোকের আঘাতের ঘটনা দেশের সিনেমা নিরাপত্তা ইতিহাসে এক কালো দাগ। সেই সময়ের শোটি ‘বর্ডার’ চলচ্চিত্রের সময় চলছিল, এবং সেখানেও কাঠামোগত ত্রুটির কারণে বড় বিপর্যয় ঘটেছিল। এই স্মৃতি আবারও সিনেমা হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধের জন্য কাঠামোগত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা তৈরির কথা ঘোষণা করেছে। মাল্টিপ্লেক্সের মালিকদের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত জানার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে, তবে তাত্ক্ষণিকভাবে সকল দর্শককে নিরাপদে বের করে আনা এবং শো বাতিল করা একটি সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
সিনেমা হলের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দর্শকদের নিরাপদে বিনোদন উপভোগের জন্য নিয়মিত পরিদর্শন এবং সময়মত মেরামত অপরিহার্য। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে সিনেমা হলের অভ্যন্তরে কোনো ঝুঁকি না থাকে এবং দর্শকরা নিশ্চিন্তে চলচ্চিত্র উপভোগ করতে পারেন।



