আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) সম্প্রতি খেলোয়াড়দের জন্য স্কোয়াড পার্টিসিপেশন টার্মস প্রেরণ করেছে, যা ২০২৪ সালে আইসিসি ও ডব্লিউসিএর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ডব্লিউসিএ এবং খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন উভয়ই এই নতুন শর্তকে শোষণমূলক বলে চিহ্নিত করেছে এবং তাৎক্ষণিক সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।
আইসিসি কর্তৃক প্রস্তাবিত শর্তগুলো মূলত স্কোয়াডের গঠন, খেলোয়াড়দের বেতন কাঠামো এবং অংশগ্রহণের শর্তাবলী নির্ধারণ করে। তবে ডব্লিউসিএর মতে, এই শর্তগুলো ২০২৪ সালের চুক্তিতে নির্ধারিত আটটি সদস্য বোর্ডের জন্যই প্রযোজ্য ছিল এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলের খেলোয়াড়দের ওপর প্রযোজ্য নয়।
ডব্লিউসিএ এই উদ্বেগ লিখিতভাবে আইসিসিকে জানায়, যেখানে তারা স্পষ্ট করে উল্লেখ করে যে চুক্তির ধারা সকল খেলোয়াড় সংগঠনের সদস্যের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিক বা না নিক। এই ভিত্তিতে ডব্লিউসিএ দাবি করে যে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে চুক্তির সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং নতুন শর্তগুলোকে বৈষম্যমূলক বলে গণ্য করা উচিত।
আইসিসি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে, যুক্তি দেয় যে ২০২৪ সালের চুক্তি শুধুমাত্র আটটি বোর্ডের জন্যই সীমাবদ্ধ ছিল এবং অন্য দলের খেলোয়াড়দের ওপর প্রযোজ্য নয়। সংস্থা উল্লেখ করে যে তারা চুক্তির সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে এবং তাই নতুন শর্তগুলোকে বৈধ বলে বিবেচনা করে।
ডব্লিউসিএ এর পাল্টা যুক্তি হলো, চুক্তির মূল পত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে খেলোয়াড় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সকল ক্রিকেটারের জন্যই শর্তগুলো প্রযোজ্য, তারা বিশ্বকাপে অংশ নিক বা না নিক। তাই তারা দাবি করে যে আইসিসি এই শর্তগুলোকে বিশ্বকাপের সকল ম্যাচে প্রয়োগ করা উচিত, যাতে সমান অধিকার নিশ্চিত হয়।
ডব্লিউসিএ বিশেষভাবে উল্লেখ করে যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং সীমিত আয়ের খেলোয়াড়দের উপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হচ্ছে, যা তাদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে। এই গোষ্ঠীর খেলোয়াড়রা অধিকতর শোষণের শিকার হতে পারে, এ কারণেই ডব্লিউসিএ শর্তগুলোকে পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানায়।
সংগঠনটি স্পষ্ট করে বলেছে যে তারা ক্রিকেটের উন্নয়ন এবং আইসিসি ইভেন্টের সম্প্রসারণের বিরোধী নয়। তবে তারা জোর দেয় যে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমন্বিত অংশীদারিত্ব অপরিহার্য। ডব্লিউসিএর মতে, খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষার জন্যই সমন্বিত নীতি গঠন করা দরকার, যাতে খেলা ও তার পরিবেশ উভয়ই টেকসই হয়।
ডব্লিউসিএ জানায় যে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা ইতিমধ্যে প্রস্তাবিত স্কোয়াড শর্তে স্বাক্ষর করেছে এবং তারা আশা করে যে বিশ্বকাপে আইসিসি এই শর্তগুলোকে কার্যকর করবে। এই স্বাক্ষর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়ায়, ডব্লিউসিএ আইসিসিকে শর্তের বাস্তবায়ন দ্রুততর করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
বিশ্বকাপের সূচি নিকটবর্তী হওয়ায়, এই বিরোধের সমাধান না হলে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও মনোভাবের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ডব্লিউসিএ এবং আইসিসি উভয়ই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে চায়, তবে শর্তের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে পার্থক্য এখনো মীমাংসা হয়নি। উভয় পক্ষের আলোচনার ফলাফল আগামী সপ্তাহে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্বকাপের আগে স্পষ্টতা আনতে পারে।



