নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীতে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে একটি মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি ধাক্কায় দুই তরুণের প্রাণ শেষ হয়ে যায়। দুর্ঘটনা ঘটে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনের ফোরলেন সড়কে, যেখানে দুই গাড়ি একে অপরের পথে চলছিল।
মৃতদেহের পরিচয় হয় ২৩ বছর বয়সী অভি দেব নাথ, যিনি বিনোদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাসকারী উমেশ কুমার ভৌমিকের পুত্র, এবং ২২ বছর বয়সী হৃদয় চন্দ্র শীল, যিনি একই গ্রাম থেকে কনু চন্দ্র শীলের পুত্র। দুজনই স্থানীয় বন্ধুরা, যাদের পরিবার ও প্রতিবেশীরা শোকাহত।
সন্ধ্যা শেষের সময়ে রাস্তায় অল্প আলো ছিল এবং গাড়িগুলো দ্রুতগতিতে চলছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলটি এক দিক থেকে চলছিল, আর পিকআপ ভ্যানটি বিপরীত দিকে গতি করছিল। দুজনের দৃষ্টিপথ একসাথে মিললে দুটো গাড়ি একে অপরকে আঘাত করে, ফলে দুজনের মাথা ও শরীরে গুরুতর আঘাত লেগে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রথম চিকিৎসক ও পুলিশ দল দ্রুত আহতদের তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে পাঠায়। পিকআপ ভ্যানের চালক গুরুতরভাবে আহত হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে, আর দুজন শিকারের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে গিয়ে শোক প্রকাশ করে।
সুধারাম থানার ওসিআই মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেল ও পিকআপ ভ্যান উভয়ই জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। গাড়িগুলোকে ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
পুলিশের মতে, এই ধরনের দুর্ঘটনা ট্রাফিক নিয়মের লঙ্ঘন, অতিরিক্ত গতি এবং রাতের অন্ধকারে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ফলে ঘটতে পারে। তাই তদন্তের সময় গাড়ি চালকের লাইসেন্স, গতি রেকর্ড এবং রোডের আলোকসজ্জা পরিস্থিতি যাচাই করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, উভয় গাড়িই সঠিকভাবে লেন অনুসরণ করেনি এবং একে অপরের দিকে অপ্রত্যাশিতভাবে গতি বাড়িয়ে চলেছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী অপরাধমূলক দায়িত্ব আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলা দাখিলের পর, সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনকে স্থানীয় আদালতে হাজির করা হবে। আদালত থেকে শোনার তারিখ নির্ধারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হবে।
শিকারের পরিবারগুলো শোকের মধ্যে আছে এবং স্থানীয় সমাজের সহানুভূতি পেয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেশীরা শোকের সমাবেশে একত্রিত হয়ে মৃতদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালিয়ে শোক প্রকাশ করেছে।
অধিকর্তারা রাত্রিকালীন গাড়ি চালানোর সময় সতর্কতা অবলম্বন, গতি সীমা মেনে চলা এবং হেডলাইটের যথাযথ ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন করলে কেবল নিজের নয়, অন্যের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসারে, তদন্ত চলাকালীন সময়ে প্রাপ্ত সব তথ্য ও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।



