24 C
Dhaka
Saturday, January 31, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমিনিয়াপলিস ও যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো মানুষ ICE বিরোধে প্রতিবাদে রওনা

মিনিয়াপলিস ও যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো মানুষ ICE বিরোধে প্রতিবাদে রওনা

মিনিয়াপলিসের রাস্তায় শুক্রবার হাজারো মানুষ একত্রিত হয়ে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্সি (ICE)কে মিনেসোটা থেকে প্রত্যাহার করার দাবি জানায়। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নিউ ইয়র্ক পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ক্লাস ত্যাগ করে জাতীয় স্তরে পদত্যাগের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই প্রতিবাদের পেছনে দুইজন মার্কিন নাগরিক, আলেক্স প্রেট্টি ও রেনি গুড, ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত হওয়া অন্তর্ভুক্ত, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন মেট্রো সার্জের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।

ট্রাম্প প্রশাসন অপারেশন মেট্রো সার্জের পরিধি ও লক্ষ্য সম্পর্কে মিশ্র বার্তা দিয়ে আসছে, ফলে কিছু বিশ্লেষকরা এটির অব্যাহত থাকা বা হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মিনিয়াপলিসে প্রায় ৩,০০০ ফেডারেল অফিসার মোতায়েন করা হয়েছে, যা শহরের পুলিশ বিভাগের পাঁচ গুণের বেশি। এই বাহিনীর উপস্থিতি এবং ট্যাকটিক্যাল গিয়ার পরিধান করে চলা রোডে গতি, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

মিনিয়াপলিসের কেন্দ্রস্থলে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ার পরেও, পরিবার, বয়স্ক দম্পতি ও তরুণ কর্মীসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী রাস্তায় সমবেত হয়। কাতিয়া কাগান, রুশ ইহুদি বংশোদ্ভূত এক তরুণী, “No ICE” স্লোগানযুক্ত সুয়েটশার্ট পরিধান করে এজেন্সি শহর ত্যাগ করুক এই দাবি জানায়। তিনি বলেন, তার বাবা-মা যে আমেরিকান স্বপ্নের জন্য এখানে এসেছিলেন, তা রক্ষার জন্য তিনি এই পথে আছেন। আরেকজন অংশগ্রহণকারী, ৬৫ বছর বয়সী ধ্যান প্রশিক্ষক কিম, শেষ নাম প্রকাশ না করে, এই পদক্ষেপকে “ফেডারেল সরকারের নাগরিকদের উপর পূর্ণাঙ্গ ফ্যাসিস্ট আক্রমণ” হিসেবে বর্ণনা করেন।

আলেক্স প্রেট্টি ও রেনি গুডের গুলিবিদ্ধ হওয়া স্থানীয় পাড়া থেকে প্রায় পঞ্চাশজন শিক্ষক ও কর্মী রাস্তায় নেমে তাদের স্মরণে একটি শোকযাত্রা পরিচালনা করে। এই শোকযাত্রা শিক্ষার ক্ষেত্রের কর্মীদের মধ্যে একতাবদ্ধতা ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরে। একই সময়ে, রক স্টার ব্রুস স্প্রিংস্টিন মিনিয়াপলিসের একটি তহবিল সংগ্রহের ইভেন্টে উপস্থিত হয়ে গুড ও প্রেট্টির পরিবারকে সমর্থন জানায় এবং তার নতুন গীত “Streets of Minneapolis” পরিবেশন করে। তার উপস্থিতি প্রতিবাদে সঙ্গীতের মাধ্যমে শক্তি যোগায়।

মিনিয়াপলিসের বাইরে, প্রতিবাদকারীরা ৪৬টি রাজ্যে মোট ২৫০টি সমাবেশের পরিকল্পনা করে। নিউ ইয়র্ক, লস এঞ্জেলেস, শিকাগো ও ওয়াশিংটনসহ বড় শহরগুলোতে একই সময়ে রোডে মানুষ জমায়েত হয়। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা দেশের বিভিন্ন কোণে ক্লাস ত্যাগ করে ICE-র উপস্থিতি ও অপারেশন মেট্রো সার্জের বিরোধিতা করে। এই জাতীয় স্তরের প্রতিবাদ, ফেডারেল শাসনের ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষের প্রতিফলন।

প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন গোষ্ঠীর দাবি স্পষ্ট: ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের মিনিয়াপলিসে উপস্থিতি অবিলম্বে শেষ করা, অপারেশন মেট্রো সার্জের স্কেল হ্রাস করা এবং ভবিষ্যতে এমন গুলিবিদ্ধ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা না থাকলেও, এই বৃহৎ প্রতিবাদ শৃঙ্খলায় রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দেবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, যদি এই ধরনের প্রতিবাদ ধারাবাহিকভাবে চালু থাকে, তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে নীতি পুনর্বিবেচনা করতে এবং ফেডারেল বাহিনীর উপস্থিতি সীমিত করতে বাধ্য হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, এই প্রতিবাদ শুধুমাত্র দুইজন নাগরিকের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়া নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নীতি ও ফেডারেল শাসনের উপর ব্যাপক জনসাধারণের অসন্তোষের প্রকাশ। ভবিষ্যতে, যদি ট্রাম্প প্রশাসন এই চাপকে উপেক্ষা করে, তবে আরও বড় আকারের প্রতিবাদ ও আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, যদি নীতি সংশোধন বা শিথিলতা করা হয়, তবে এই ধরণের প্রতিবাদ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি ও ইমিগ্রেশন নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments