প্রেসিডেন্ট তায়িপ এর্দোগান গতকাল ইরানের মসৌদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তুর্কি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছেন। এই ঘোষণাটি তুর্কি প্রেসিডেন্সি অফিসের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। উভয় দেশের উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষিতে তুর্কি এই ভূমিকা নিতে চায়।
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাগচি একই দিনে ইস্তাম্বুলে পৌঁছান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পুনরায় শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে আলোচনায় ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত না করা উচিত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইরানের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, একই সময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর আরেকটি যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। পেন্টাগন প্রধানের মতে, সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
ট্রাম্প পূর্বে তেহরানের জন্য সময় কমে যাচ্ছে বলে সতর্কতা দিয়েছিলেন, তবে সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি ইরানের দিকে একটি দল পাঠানোর কথা উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন যে তা ব্যবহার করতে না হয়। এই বক্তব্যটি ইরানের প্রতি সামরিক হুমকি কমানোর ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান শর্ত হল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা, যা ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। ইরান এই শর্তকে প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজের স্বার্থ রক্ষার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ইস্তাম্বুলে আরাগচি ও তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আরাগচি বলেন, যদি আলোচনায় সমতা ও ন্যায়বিচার বজায় থাকে তবে ইরান অংশ নিতে প্রস্তুত। ফিদান ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর সামরিক আক্রমণ চালানোর জন্য প্ররোচিত করার অভিযোগ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
আরাগচি উল্লেখ করেন যে তেহরান ও ওয়াশিংটন-এর মধ্যে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার ব্যবস্থা নেই, তবে ইরান যেকোনো সময় আলোচনায় অংশ নিতে অথবা সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এই দ্বৈত অবস্থান অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুটেরেস ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনার জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন, যাতে অঞ্চলে বিপর্যয়কর সংকট এড়ানো যায়। তিনি উভয় পক্ষকে সংলাপের পথে ফিরে আসতে আহ্বান জানান।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের বিপ্লবী গার্ড (IRGC)কে সন্ত্রাসী সংস্থা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আরাগচি ‘একটি বড় কৌশলগত ভুল’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে এই পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও খারাপ করতে পারে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথকে বাধাগ্রস্ত করবে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে তুর্কি কি মধ্যস্থতা উদ্যোগকে বাস্তবায়ন করতে পারবে, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সঙ্গে সংলাপের ইচ্ছা কতটা দৃঢ়, তা অঞ্চলীয় রাজনৈতিক গতিবিধি নির্ধারণ করবে। উভয় পক্ষের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ আলোচনার দিকনির্দেশনা গঠিত হবে।



