ড্যারেন আরোনফস্কি ২০২৬ সালে ইউটিউব (Youtube)‑এ “On This Day… 1776” শিরোনামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিরিজ প্রকাশ করেন। সিরিজটি আমেরিকান বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে পুনর্নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি, এবং গুগল DeepMind‑এর এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্পে স্যাগ (SAG) ভয়েস অভিনেতাদের কণ্ঠ এবং ঐতিহাসিক পোশাকের পুনর্নির্মাণ যুক্ত, যা উচ্চমানের উৎপাদনকে ইঙ্গিত করে।
সিরিজের মূল ধারণা হল এআইকে মানব শিল্পের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা, সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন নয়। প্রতিটি পর্বে বিপ্লবের নির্দিষ্ট দিনকে কেন্দ্র করে গল্প বলা হয়, যেমন “January 1: The Flag” এবং “January 10: Common Sense” শিরোনামের দুটি এপিসোড ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এই দুইটি পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার উত্থান এবং থমাস পেইনের “কমন সেন্স” পাম্ফলেটের প্রভাবকে চিত্রায়িত করা হয়েছে।
দৃশ্যমান দিক থেকে সিরিজটি ঐতিহাসিক নাটক যেমন “জন অ্যাডামস” বা “বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন”‑এর উচ্চমানের সেট ও পোশাকের স্মরণ করিয়ে দেয়। গুগল DeepMind‑এর এআই‑চালিত ভিজ্যুয়ালগুলো প্রথম দেখায় সূক্ষ্ম টেক্সচার এবং বাস্তবসম্মত রঙের ছাপ দেয়, যা দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। তবে এই চমকপ্রদ ভিজ্যুয়ালই প্রথমে দর্শকের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেয়।
প্রথমে ট্রেলার থাম্বনেইল দেখলে সিরিজটি পেশাদার মানের মতো মনে হয়; উজ্জ্বল রঙ, পরিষ্কার লাইন এবং ঐতিহাসিক উপকরণগুলো সূক্ষ্মভাবে সাজানো দেখা যায়। কিন্তু পূর্ণ পর্ব দেখার পর এআই‑এর সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চরিত্রগুলোর ত্বকে একধরনের প্লাস্টিকের ঝলক দেখা যায়, যা স্বাভাবিক মানব ত্বকের উষ্ণতা ও সূক্ষ্মতা থেকে ভিন্ন।
চলচ্চিত্রের সবচেয়ে তীব্র সমস্যাগুলোর একটি হল অস্বাভাবিক অ্যানিমেশন। চরিত্রের চলাচল কখনো কখনো হঠাৎ থেমে যায়, কখনো অতিরিক্ত ঝাঁকুনি দেয়, ফলে দৃশ্যের স্বাভাবিকতা হারিয়ে যায়। এই ধরনের অস্বাভাবিকতা দর্শকের চোখে অচেনা ভ্যালি (uncanny valley) তৈরি করে, যেখানে বাস্তবতা ও কৃত্রিমতার মধ্যে অস্বস্তিকর ফাঁক দেখা যায়।
এছাড়াও কিছু অপ্রত্যাশিত ত্রুটি পর্বে দেখা যায়, যেমন এক দৃশ্যে চুলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া উচিত একটি হেয়ারব্রাশ হেয়ারব্রাশের পাথরের মতোই চুলের উপর দিয়ে স্লাইড করে, কিন্তু কোনো সংস্পর্শ ঘটায় না। এমন ছোটখাটো ভুলগুলো এআই‑সৃষ্ট কন্টেন্টের স্বচ্ছতা হ্রাস করে এবং দর্শকের মনোযোগ বিচ্যুত করে।
সিরিজের উৎপাদনে গুগল, গুগল DeepMind এবং ইউটিউবের সমর্থন রয়েছে, যা প্রকল্পের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষমতা নির্দেশ করে। তবুও এআই‑ভিত্তিক ভিজ্যুয়ালের গুণগত মান এখনও মানবিক সূক্ষ্মতা ও অভিজ্ঞতার স্তরে পৌঁছাতে পারেনি। এই পর্যবেক্ষণটি দেখায় যে এআইকে সৃজনশীল প্রক্রিয়ার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা সহজ নয়; প্রযুক্তিগত সীমা ছাড়াও শিল্পের গভীর মানবিক দিকগুলোকে অনুকরণ করা কঠিন।
বিপ্লবের ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু নিজেই গুরুত্বপুর্ণ, তবে এআই‑এর বর্তমান সীমাবদ্ধতা তা যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে বাধা দেয়। সিরিজের সেট, পোশাক এবং কণ্ঠের গুণমান উচ্চমানের হলেও, ভিজ্যুয়াল ও অ্যানিমেশনের ত্রুটি পুরো অভিজ্ঞতাকে নষ্ট করে। ফলে দর্শকরা দ্রুতই লক্ষ্য করেন যে এআই‑সৃষ্ট দৃশ্যগুলো এখনও মানবিক স্পর্শের অভাব রাখে।
এই প্রকল্পটি এআই‑চালিত চলচ্চিত্র নির্মাণের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা উস্কে দেয়। যদিও প্রযুক্তি দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে, তবে এআই‑এর স্বয়ংক্রিয়তা ও মানবিক সৃজনশীলতার সমন্বয় এখনও সূক্ষ্ম সমন্বয়ের প্রয়োজন। বর্তমান পর্যায়ে এআই‑ভিত্তিক ভিজ্যুয়ালকে সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
দর্শকদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ হল, এআই‑সৃষ্ট কন্টেন্ট উপভোগ করার সময় বাস্তবিক প্রত্যাশা বজায় রাখা। যদি আপনি ইতিহাসের পুনর্নির্মাণে আগ্রহী হন, তবে সিরিজের ঐতিহাসিক তথ্য ও কণ্ঠের গুণমানকে মূল আকর্ষণ হিসেবে গ্রহণ করুন, তবে ভিজ্যুয়ালের ত্রুটিগুলোকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে দেখুন। এভাবে আপনি এআই‑এর সম্ভাবনা ও সীমা উভয়ই সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারবেন।
সারসংক্ষেপে, ড্যারেন আরোনফস্কির “On This Day… 1776” সিরিজটি উচ্চমানের উৎপাদন ও ঐতিহাসিক বিষয়বস্তুকে একত্রিত করার চেষ্টায় গুগল DeepMind‑এর এআই‑ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করেছে, তবে বর্তমান প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা চরিত্রের চেহারা, অ্যানিমেশন এবং সূক্ষ্ম ত্রুটিতে প্রকাশ পেয়েছে। এই অভিজ্ঞতা এআই‑কে সৃজনশীল শিল্পের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করার পথে আরও গবেষণা ও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।



