বন্দরবনের একক সংসদীয় এলাকা ৩০০-এ ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলতে থাকা অবস্থায় ভোটাররা প্রতিশ্রুতি ছাড়িয়ে বাস্তব কাজের দাবি জানাচ্ছেন। নির্বাচনের আগে দুই প্রধান প্রার্থীর মুখোমুখি হওয়ায় ভোটারদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগ উভয়ই তীব্রতর হয়েছে।
দূরবর্তী হিল জেলা বন্দরবনের ভোটার সংখ্যা মোট ৩,১৫,৪২২, যার মধ্যে নারী ১,৫৩,৬৬৭ এবং পুরুষ ১,৬১,৭৭৫। এদের মধ্যে ৩০,৬৭১ নতুন ভোটার, বেশিরভাগই তরুণ, যারা ফলাফল গঠন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি থেকে সাচিংপ্রু জেরি পল্লী শস্যের গাঁথা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আর জাতীয় নাগরিক দল থেকে আবু সাঈদ মো. সুজাউদ্দিন জলকুমারী কুঁড়ি প্রতীক নিয়ে অংশ নিচ্ছেন। উভয় প্রার্থীই চারজনের মধ্যে অন্যতম প্রধান নাম হিসেবে ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন।
তরুণ ভোটারদের আলোচনায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা প্রধান বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। তারা এমন একটি নির্বাচন চান যেখানে স্বচ্ছভাবে ভোট দেওয়া সম্ভব হবে এবং তাদের মতামত জাতীয় রাজনীতিতে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।
থানচি উপজেলায় কানুচিং মারমা বলেন, “সবাই ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসে, তবে পরে তা অদৃশ্য হয়ে যায়। এবার আমরা এমন কাউকে চাই যে আমাদের উন্নতির জন্য সত্যিকারের কাজ করবে।” একই রকম উদ্বেগ আলিকাডামের মেনলে ম্রোও প্রকাশ করেছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এখনো পুরো এলাকা জুড়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরি হিল জেলা গুলোতে দীর্ঘদিনের অবহেলা, ভূমি বিরোধ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্যকে মূল সমস্যারূপে তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা আমার প্রধান লক্ষ্য।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
জাতীয় নাগরিক দলের প্রার্থী সুজাউদ্দিন, যদিও তিনি চট্টগ্রামের মোহেশখালী উপজেলায় বসবাস করেন এবং স্থানীয় নয়, তবু তিনি বন্দরবনের উন্নয়নের জন্য নিজস্ব পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। তার প্রচারাভিযানেও উন্নত অবকাঠামো ও সামাজিক সেবার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বন্দরবনের ভোটারদের এই সময়ের চাহিদা স্পষ্ট: তারা কেবল ভোটের প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবিক উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার চান। দুই প্রধান প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি ও কর্মপরিকল্পনা কীভাবে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ করবে, তা নির্বাচনের ফলাফলে নির্ধারক হবে।
এই নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ভোটারদের প্রত্যাশা ও প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি একে অপরের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ফলাফল নির্ভর করবে নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণের মাত্রা, তরুণদের মূল বিষয়ের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং প্রার্থীদের বাস্তবিক পদক্ষেপের ওপর। নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে ভোটের ফলাফল অনুযায়ী স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গঠন ও বাস্তবায়ন হবে মূল দিক, যা বন্দরবনের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে।



