কানাডার শক্তি সংস্থা নিকো রিসোর্সেসকে তেংগ্রতিলা গ্যাস ফিল্ডে ২০০৫ সালের বিস্ফোরণের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে আন্তর্জাতিক আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল আদেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ১৮ ডিসেম্বর গত বছর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্যাটলমেন্ট অফ ইনভেস্টমেন্ট ডিসপুটস (ICSID) দ্বারা প্রকাশিত হয়।
ICSID ট্রাইব্যুনাল এই মামলাটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রের অধীনে শুনানি করে এবং শেষে নিকো রিসোর্সেসের দায়িত্ব নিশ্চিত করে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে গ্যাস ফিল্ডের অপারেশন সংক্রান্ত অবহেলা মূল কারণ।
বাংলাদেশের এনার্জি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের কর্মকর্তারা কয়েক দিন আগে তাদের আইনজীবীর কাছ থেকে রায়ের সংক্ষিপ্তসার পেয়ে এই তথ্য জানেন। তারা জানান যে রায়ের পূর্ণ পাঠ্য শীঘ্রই পাবেন এবং তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন।
এই ক্ষতিপূরণটি বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্সের যৌথভাবে দায়ের করা ১.০১৪ বিলিয়ন ডলার দাবির অংশ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। মূল দাবিতে বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট বিশাল গ্যাস ফ্লেয়ারিং এবং পরিবেশগত ক্ষতির জন্য পূর্ণ ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছিল।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে গ্যাসের প্রায় ৮ বিলিয়ন কিউবিক ফিট ক্ষতির জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশ ও অন্যান্য ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হয়েছে। এই পরিমাণটি মূল দাবির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, তবে নিকো রিসোর্সেসের অবহেলার স্বীকৃতি রয়েছে।
শক্তি, খনিজ ও সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফৌজুল কবির খান উল্লেখ করেন, রায়ের পূর্ণ পাঠ্য না পাওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের ভিত্তি সম্পূর্ণভাবে বোঝা কঠিন। তবে স্পষ্ট যে ট্রাইব্যুনাল নিকোর অপারেশনাল অবহেলা স্বীকার করেছে।
বাংলাদেশ সরকার এখন আইনগত দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে রায়ের বিশদ বিশ্লেষণ করবে এবং পরবর্তী আইনি বা কূটনৈতিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করবে। রায়ের পূর্ণ টেক্সট পাওয়ার পর সরকার কীভাবে এই ক্ষতিপূরণ ব্যবহার করবে তা নির্ধারণ করা হবে।
মামলার শুনানির সময় উন্মোচিত হয় যে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক আরবিট্রেশন ফোরামে দেশীয় দাবির চেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ চেয়েছিল। এই পার্থক্য এবং অন্যান্য আইনি বিষয়গুলো রায়ের আগে স্পষ্ট করা কঠিন ছিল।
পূর্ববর্তী সরকার যখন রায়ের তথ্য অকাল প্রকাশ করেছিল, তখন গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার ফলে বর্তমান প্রশাসন রায়ের বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করছে।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে নিকো রিসোর্সেসের উপর আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে সতর্কতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ সরকার এই ক্ষতিপূরণকে গ্যাস উৎপাদন ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের জন্য ব্যবহার করলে জ্বালানি সেক্টরের আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে।
সংক্ষেপে, নিকো রিসোর্সেসকে ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ আদেশের ফলে আন্তর্জাতিক আরবিট্রেশন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারের আইনি কৌশল ও জ্বালানি নীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনবে।



