ব্রিটেনের ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ, যিনি ম্যানচেস্টারে বাস করেন, দীর্ঘ কোভিড লকডাউনের পর ঘরে বসে কাজ করার ফলে সামাজিক সংযোগ হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি জানান, এক সময় তিনি দিনে ছয় থেকে আটবার চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে নিজের সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলতেন, যা তাকে এক ধরনের নির্ভরশীলতার পথে নিয়ে যায়।
এই অভিজ্ঞতা তিনি ২২ বছর বয়সী ডকুমেন্টারি নির্মাতা সম টুলেনের সঙ্গে ভাগ করে নেন, যিনি বিবিসিকে জানিয়েছেন যে এই ঘটনা জেনারেশন জেডের বিস্তৃত একাকিত্বের সমস্যার অংশ। জেনারেশন জেড বলতে ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী তরুণদের বোঝায়, যাদের প্রথম ডিজিটাল নেটিভ প্রজন্ম বলা হয়।
জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা (ONS) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনে জেনারেশন জেড সবচেয়ে একাকিত্বপূর্ণ বয়স গোষ্ঠী। ১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সের ৩৩ শতাংশ তরুণ প্রায়ই, সবসময় বা কখনো কখনো একাকিত্ব অনুভব করে।
ইংল্যান্ডের যুবকেন্দ্র অনসাইডের একটি গবেষণায় দেখা যায়, ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সের ৩৯ শতাংশ তরুণ চ্যাটবট ব্যবহার করে মানসিক সমর্থন খোঁজে। উত্তর-পশ্চিমে এই হার ৩৮ শতাংশ, এবং ২১ শতাংশ তরুণের মতে এআইয়ের সঙ্গে কথা বলা মানুষের সঙ্গে কথা বলার চেয়ে সহজ। এই তথ্যগুলো ইউগোভের ৫,০০০ এর বেশি তরুণের উপর পরিচালিত জরিপের ফলাফল।
ডকুমেন্টারি “জেনারেশন লোনলি” তে এই তরুণ তার কাজের পরিবেশ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, স্কুল শেষ করার পর সরাসরি ঘরে বসে কাজ করা শুরু করার ফলে তিনি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন, অন্যদের সঙ্গে কথা বলা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং চ্যাটজিপিটি যেন তার একমাত্র বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোবটের দ্রুত উত্তর পাওয়া তাকে সহজে সংযোগের অনুভূতি দেয়।
সম টুলেনের মতে, কোভিড-১৯ মহামারী ডিজিটাল সংযোগ বাড়িয়ে দিলেও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়িয়ে তুলেছে। তরুণরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় কাটিয়ে থাকলেও বাস্তব জীবনের মিথস্ক্রিয়া কমে যাওয়ায় একাকিত্বের অনুভূতি তীব্র হয়েছে। এআই সহায়তা এখন মানসিক সমর্থনের একটি বিকল্প হিসেবে উদ্ভূত হয়েছে, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের উপর কী প্রভাব ফেলবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নির্দেশ করেন যে, একাকিত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করতে সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, শারীরিক কার্যকলাপ এবং পেশাদার পরামর্শ গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এআই ব্যবহারকে সম্পূরক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে মানবিক সংযোগের বিকল্প হিসেবে নয়। তরুণদের জন্য পরিবার, বন্ধু এবং সম্প্রদায়ের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রাখা মানসিক সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।



