বাংলাদেশের ২০২৪ সংসদ নির্বাচনে মোট ১,৯৮১ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৭৮ জন নারী অংশগ্রহণ করেছে, যা পূর্বের সর্বোচ্চ সংখ্যাকে অতিক্রম করেছে। তবে নারী প্রার্থীর শতাংশ মাত্র ৩.৯৩ % এবং তাদের প্রার্থীতা ৬৭টি নির্বাচনী এলাকায় সীমাবদ্ধ, ফলে দুই‑তৃতীয়াংশ আসনেই সরাসরি নারী প্রতিনিধিত্বের সুযোগ নেই।
এই ৭৮ নারী প্রার্থীর মধ্যে ৬১ জনকে ৩০টি রাজনৈতিক দল নামানিবেশ করেছে, আর বাকি ১৭ জন স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পারিবারিক বা স্বামী‑সন্তান সংযোগযুক্ত প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তুলনায় বেশি সমর্থন পেয়েছে।
প্রাক্তন অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন সংস্কার কমিটির সদস্য জেসমিন তুলির মতে, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া এখনও পুরুষ‑প্রধান এবং অধিকাংশ নারী নেতা পারিবারিক প্রভাবের মাধ্যমে উঠে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভিত্তি থেকে উঠে আসা, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাঠে কাজ করা নারী নেতার সংখ্যা খুবই সীমিত।
তুলি আরও বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে সামাজিকভাবে অনুকূল না করা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে নারীদের জন্য রাজনীতিতে প্রবেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোই নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে।
১৯৭২ সালের প্রতিনিধিত্বের অধিকার আদেশ (RPO) অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোকে কেন্দ্রীয় স্তরসহ কমিটিতে কমপক্ষে ৩৩ % আসন নারী সদস্যের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। তবে বর্তমান পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অধিকাংশ দল এই বিধান মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে।
২০২১ সালে নির্বাচন কমিশন দলগুলোর জন্য নারী সংরক্ষণ বিধি পূরণের শেষ তারিখ বাড়িয়ে দেয়, তবে তা সত্ত্বেও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। এই দেরি করা সময়সীমা মূলত দলগুলোকে প্রয়োজনীয় নারীর সংখ্যা নিশ্চিত করতে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তা পূরণ করা কঠিন হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল ও প্রার্থী তালিকায় নারীর কম প্রতিনিধিত্ব ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। যদি পারিবারিক সংযোগের ওপর নির্ভরশীলতা অব্যাহত থাকে, তবে নারীর স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার সুযোগ সীমিত থাকবে।
অন্যদিকে, নারী অংশগ্রহণের রেকর্ড বৃদ্ধি সত্ত্বেও, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ও সমর্থনের অভাবের কারণে নারীর সংখ্যা বাড়ানো কঠিন হতে পারে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উচিত নিরাপদ ও সমান পরিবেশ তৈরি করা, যাতে আরও বেশি নারী স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
সংক্ষেপে, ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক নারী প্রার্থী উপস্থিত হলেও, তাদের প্রভাব সীমিত এবং অধিকাংশই পারিবারিক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে আইনগত বাধ্যবাধকতা কার্যকর করা এবং সামাজিক বাধা দূর করা জরুরি।



