১৭ বছর বয়সী ফায়সাল খান, আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ ব্যাটসম্যান, যুব ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার‑ফাইনালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪২ ball-এ ১৬৩ রান সংগ্রহ করে দলকে জয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই পারফরম্যান্সে তিনি ১৮টি চার এবং একটি ছক্কা মারেন, যা তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
ফায়সালের এই ইনিংসটি ২০১৬ সালে যুব বিশ্বকাপে ফিজির বিপক্ষে ১৫৬ রান করে কারিম জানাতের দশ বছর পুরনো রেকর্ডকে ভেঙে দেয়। রেকর্ড ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ একক স্কোরের অধিকারী হন।
যুব ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ফায়সাল এখন পর্যন্ত ২১টি ম্যাচে পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন, যা তাকে এই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রাখে। তার এই সাফল্য কুইন্টন ডি কক, শুবমান গিল এবং মাহমুদুল হাসান জয়ের মতো আন্তর্জাতিক পরিচিত খেলোয়াড়দের চারটি সেঞ্চুরি অতিক্রম করে।
ফায়সালের পাঁচটি সেঞ্চুরি তাওহিদ হৃদয় ও উন্মুক্ত চাঁদের সমান সংখ্যায় রয়েছে। তাওহিদের পাঁচটি সেঞ্চুরি ৪৭টি ম্যাচে অর্জিত, আর উন্মুক্ত চাঁদ ও ফায়সাল উভয়ই ২১টি ম্যাচে একই সংখ্যক সেঞ্চুরি রেকর্ড করেছেন। এই তুলনা দেখায় যে ফায়সাল তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক ম্যাচে সমান বা বেশি সেঞ্চুরি তৈরি করেছেন।
পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সামি আসলামের ৪০টি ম্যাচে ছয়টি সেঞ্চুরি রয়েছে, যা ফায়সালের পাঁচটি সেঞ্চুরির চেয়ে এক বেশি। সামি আসলামের এই রেকর্ড ফায়সালের সামনে একটি নতুন লক্ষ্য স্থাপন করেছে, যেহেতু তিনি শীঘ্রই এই সীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা রাখেন।
ফায়সালের পাঁচটি সেঞ্চুরি মাত্র চৌদ্দ মাসের একটু বেশি সময়ে অর্জিত হয়েছে। প্রথম সেঞ্চুরি তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে করতেন। পরের বছর নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বিপক্ষে সিরিজে তিনি দুটি সেঞ্চুরি যোগ করেন, আর একই বছরের ডিসেম্বর মাসে যুব এশিয়া কাপের একটি ম্যাচে আবারও বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে সেঞ্চুরি করেন।
এই ধারাবাহিকতা তাকে একটি অনন্য রেকর্ডের দিকে নিয়ে যায়: কোনো এক দেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি সেঞ্চুরি করার রেকর্ডে তিনি সমবেত হয়েছেন তাওহিদ হৃদয়ের (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে), শুবমান গিলের (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে) এবং সামি আসলামের (ভারতের বিপক্ষে) সঙ্গে। এই রেকর্ডটি যুব ওয়ানডে ক্রিকেটে বিরল এবং ফায়সালের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা তুলে ধরে।
ফায়সালের দ্রুত উত্থান এবং ধারাবাহিক সেঞ্চুরি তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য আশাব্যঞ্জক সংকেত দেয়। তার পারফরম্যান্স কেবল আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের আক্রমণাত্মক শক্তি বাড়ায় না, বরং আন্তর্জাতিক যুব ক্রিকেটে তার অবস্থানকে দৃঢ় করে। পরবর্তী ম্যাচে তিনি এবং তার দলকে কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে তার বর্তমান ফর্ম দেখে আশা করা যায় তিনি আরও বড় মঞ্চে নিজের ছাপ রাখতে সক্ষম হবেন।



