৩১ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার, ঢাকা শহরে জাতীয়তাবাদী পার্টির প্রাক্তন নেতা মির্জা আব্বাস একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি জানান, ঘুম থেকে উঠে বেশিরভাগ মানুষ আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে এবং এক ব্যক্তি তার নামকে সেই রীতিতে যুক্ত করেছে। এই মন্তব্যটি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া হয়।
মির্জা আব্বাস বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টির (বিএনপি) প্রাক্তন চেয়ারপার্সন এবং পূর্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এখনো সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির সময়।
বক্তব্যের সময় তিনি উল্লেখ করেন, দিন শুরুতে আল্লাহর নাম বলা একটি সাধারণ ধর্মীয় অভ্যাস, যা সমাজের বহু স্তরে প্রচলিত। তাছাড়া, তিনি যোগ করেন যে, কোনো এক ব্যক্তি এই অভ্যাসে নিজের নামকে যুক্ত করে নতুন একটি ধারা শুরু করেছে।
আব্বাস স্পষ্ট করে বলেন, এই মন্তব্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়, বরং রাজনৈতিক ভাষণে ব্যক্তিগত পরিচয়ের বাড়তি গুরুত্বকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি এই প্রবণতাকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি অংশ হিসেবে দেখেন।
এই মন্তব্যটি একটি প্রেস কনফারেন্সে করা হয়, যা বিএনপি সমর্থকদের আয়োজিত। কনফারেন্সে পার্টির আসন্ন নির্বাচনী পরিকল্পনা ও নীতি সমূহ উপস্থাপন করা হয়।
বিশ্লেষকরা লক্ষ্য করেন, এবারের মন্তব্যটি এমন একটি সময়ে এসেছে যখন সব প্রধান দল গ্রাসমূলক ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে তীব্র প্রচার চালাচ্ছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উপাদানকে কাজে লাগিয়ে ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
বিএনপি, যা বর্তমানে শাসনরত আওয়ামী লীগকে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে চিহ্নিত, ভোটারদের বিকল্প নেতৃত্বের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চায়। আব্বাসের মন্তব্যকে তিনি ধর্মীয় অনুভূতি ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের মিশ্রণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
শাসনরত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট মন্তব্যের উপর কোনো তাত্ক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পার্টির মুখপাত্র সাধারণত বিরোধীর মন্তব্যের প্রতি সংযত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করা ভোটারদের সংবেদনশীলতা জাগাতে এবং সংরক্ষণশীল গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে কৌশলগত হতে পারে। বিশেষ করে এই বছরের শেষের দিকে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের রেটোরিক্স বাড়তে পারে।
আব্বাসের মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। ব্যবহারকারীরা ব্যক্তিগত নামের ব্যবহারকে রাজনৈতিক ভাষণে অন্তর্ভুক্ত করার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে মতবিনিময় করেন। কিছু মন্তব্যে এটি নতুন ধরণের রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
নির্বাচন কমিশন ক্যাম্পেইনের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং কোনো ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তব্যের বিরুদ্ধে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। তারা সকল রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহার করার আহ্বান জানায়।
নির্বাচনের দিন নিকটে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রধান দুই দল—আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি—তাদের প্রচারাভিযান তীব্র করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মির্জা আব্বাসের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় একটি নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।



