ওয়াশিংটন ডি.সিতে ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন, যেখানে প্রথম স্ত্রীর ওপর ভিত্তি করে নতুন রাজনৈতিক ডকুমেন্টারি ‘Melania’ প্রদর্শিত হয়। চলচ্চিত্রটি একই দিনে বক্স অফিসে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত, এবং উত্তর আমেরিকায় প্রারম্ভিক সপ্তাহে ৮ মিলিয়ন ডলার বা তার বেশি আয় করার সম্ভাবনা রয়েছে।
‘Melania’ ডকুমেন্টারিটি প্রথম স্ত্রীর জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে, এবং বিতর্কিত পরিচালক ব্রেট রাটনারের হাতে তৈরি। রাটনার এই প্রকল্পকে হলিউডে পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ হিসেবে দেখছেন, এবং চলচ্চিত্রটি দশকের সেরা ডকুমেন্টারি উদ্বোধন হিসেবে গড়ে তুলতে চাচ্ছে।
কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে স্ট্রিমিং সেবা নন-ফিকশন বাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে, ফলে থিয়েটার ভিত্তিক ডকুমেন্টারির জন্য দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়া একটি চ্যালেঞ্জ। তবুও ‘Melania’ এর প্রত্যাশিত ৮ মিলিয়ন ডলারের উদ্বোধনী আয় এই প্রবণতাকে পরিবর্তন করতে পারে।
অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস এই চলচ্চিত্রের জন্য বিশ্বব্যাপী লাইসেন্সিং অধিকার অর্জনে ৪০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে। এই চুক্তি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার একটি কৌশল হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, এবং ফলে ‘Melania’ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল ডকুমেন্টারি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিপণন দিক থেকে অ্যামাজন মোট ৩৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং বাকি অংশ গ্লোবাল ক্যাম্পেইনে ব্যবহার হয়েছে। সাধারণত বৃহৎ ডকুমেন্টারির দেশীয় বিপণন বাজেট ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে ‘Melania’ এর ক্ষেত্রে এই সীমা অনেক বেশি নির্ধারিত হয়েছে।
পূর্বে অ্যাল গোরের ‘An Inconvenient Truth’ এবং মাইকেল মুরের ‘Fahrenheit 9/11’ এর মতো ডকুমেন্টারিগুলোর দেশীয় বিপণন ব্যয় প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার ছিল, যা পুরস্কার প্রাপ্তির সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য বাড়ানো হয়েছিল। যদিও মুদ্রাস্ফীতি সমন্বয় করা হয়নি, তবু এই দুই চলচ্চিত্রের উচ্চ ব্যয় ‘Melania’ এর বিপণন কৌশলকে সমর্থন করে।
‘Melania’ কে ২০ টিরও বেশি বিদেশি বাজারে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রাইম ভিডিওর বিশাল উপস্থিতি রয়েছে। এই বিস্তৃত মুক্তি পরিকল্পনা প্রথম স্ত্রীর বিতর্কিত ব্যক্তিত্বের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হলেও, বৃহৎ দর্শকগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকাশের পরই দক্ষিণ আফ্রিকান বিতরণকারী চলচ্চিত্রটি প্রত্যাহার করেছে, এবং ইউরোপে খালি থিয়েটার নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরণের প্রতিবেদনকে প্রতিফলিত করে, যেখানে কিছু থিয়েটার পূর্ণ না হওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে।
বিপণন বাজেটের মোট পরিমাণের মধ্যে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত প্রচার কার্যক্রমে বরাদ্দ করা হয়েছে, যদিও এর সুনির্দিষ্ট ব্যবহার এখনো প্রকাশিত হয়নি। এই অতিরিক্ত ব্যয় চলচ্চিত্রের দৃশ্যমানতা বাড়িয়ে দর্শকসংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্য বহন করে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি ‘Melania’ প্রত্যাশিত আয় অর্জন করে, তবে এটি ডকুমেন্টারি ঘরানার জন্য একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ উচ্চ বাজেটের প্রকল্পের জন্য পথ প্রশস্ত করবে। একই সঙ্গে, এই সফলতা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে থিয়েটার ভিত্তিক নন-ফিকশন কন্টেন্টের সমন্বয়কে পুনরায় মূল্যায়ন করতে পারে।
প্রতিটি চলচ্চিত্রপ্রেমী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকের জন্য ‘Melania’ একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে, যা কেবল বক্স অফিসের সংখ্যা নয়, বরং আধুনিক ডকুমেন্টারির অর্থনৈতিক মডেলকেও প্রশ্নের মুখে ফেলবে। দর্শকরা যদি থিয়েটার বা অনলাইন উভয় মাধ্যমেই এই চলচ্চিত্রটি দেখেন, তবে তারা বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনার একটি অংশ হয়ে উঠবেন।



