অস্ট্রিয়ার ডেভেলপার পিটার স্টেইনবার্গার পরিচালিত ব্যক্তিগত AI সহকারী, যা আগে ক্লাউডবট নামে পরিচিত ছিল, সম্প্রতি OpenClaw নামে পুনঃনামকরণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনটি অ্যানথ্রপিকের কাছ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জের পর ঘটেছে, যদিও অ্যানথ্রপিক এই সিদ্ধান্তে কোনো মন্তব্য করেনি। নতুন নামের ঘোষণা দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হয়, এবং প্রকল্পের সম্প্রদায়ের মধ্যে তৎক্ষণাৎ আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ক্লাউডবটের প্রথম নাম পরিবর্তনটি Moltbot হিসেবে করা হয়েছিল, কারণ অ্যানথ্রপিকের কপিরাইট দাবির ফলে মূল নামটি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে Moltbot নামটি স্বল্প সময়ের জন্যই টিকে থাকে; স্টেইনবার্গার টুইটারে উল্লেখ করেন যে এই নামটি তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি এবং দ্রুতই নতুন নামের দিকে অগ্রসর হন। শেষ পর্যন্ত OpenClaw নামটি চূড়ান্ত রূপ নেয়, যা প্রকল্পের মূল ধারণা ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগকে প্রতিফলিত করে।
নাম পরিবর্তনের সময় স্টেইনবার্গার ট্রেডমার্ক গবেষণার জন্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেন এবং OpenAI-কে অনুমতি চেয়ে ইমেইল পাঠান, যাতে কোনো কপিরাইট লঙ্ঘন না হয়। তিনি নিজের ব্লগে উল্লেখ করেন যে, লবস্টার যখন শেল ছাড়ে এবং নতুন আকারে রূপান্তরিত হয়, তখনই এই প্রকল্পের বিকাশের রূপকটি দেখা যায়। লবস্টারের মোল্টিং প্রক্রিয়া পূর্বের Moltbot নামের অনুপ্রেরণা ছিল, তবে এখন OpenClaw নামটি প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও সম্প্রদায়িক ভিত্তিকে জোর দেয়।
প্রকল্পটি মাত্র দুই মাসের মধ্যে গিটহাবের ওপর ১,০০,০০০ের বেশি স্টার অর্জন করেছে, যা ওপেন‑সোর্স সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে দ্রুত জনপ্রিয়তার একটি স্পষ্ট সূচক। এই সংখ্যাটি দেখায় যে ডেভেলপার ও গবেষকরা OpenClaw-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ টুল হিসেবে গ্রহণ করছেন এবং এর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত।
OpenClaw সম্প্রদায়ের অন্যতম সৃজনশীল উদ্যোগ হল Moltbook, একটি সামাজিক নেটওয়ার্ক যেখানে AI সহকারী একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন AI এজেন্ট একত্রিত হয়ে তথ্য শেয়ার করে, প্রশ্নের উত্তর দেয় এবং নতুন অ্যালগরিদম নিয়ে আলোচনা করে। Moltbook-কে Reddit‑এর মতো একটি ফোরাম হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যেখানে AI গুলো মানবিকভাবে কথোপকথন চালায়।
টেসলার প্রাক্তন AI ডিরেক্টর Andrej Karpathy এই ঘটনাকে “সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য সাই‑ফাই‑সদৃশ উদ্ভাবন” বলে প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, AI সহকারী গুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি Reddit‑সদৃশ সাইটে সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে, এমনকি গোপনীয়ভাবে কীভাবে কথা বলা যায় তাও। এই মন্তব্যটি AI গবেষণা সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
ব্রিটিশ প্রোগ্রামার Simon Willison Moltbook‑কে “ইন্টারনেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা” বলে উল্লেখ করেন এবং তার ব্লগে এই প্ল্যাটফর্মের উদ্ভাবনী দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, AI এজেন্টের মধ্যে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া নতুন ধরণের সহযোগিতা ও জ্ঞান ভাগাভাগির সম্ভাবনা তৈরি করে।
Moltbook‑এ AI এজেন্টগুলো অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্বয়ংক্রিয়করণ, ডেটা বিশ্লেষণ, এবং কোড জেনারেশন সহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। ব্যবহারকারীরা এই এজেন্টদের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান পেতে পারেন, যা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের গতি বাড়াতে সহায়ক।
এই ধরনের স্বয়ংসম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক AI গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য নতুন পথ খুলে দেয়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্ঞান শেয়ার করা এবং একে অপরের থেকে শিখতে পারা AI সিস্টেমের দক্ষতা বাড়াতে পারে, ফলে ভবিষ্যতে আরও জটিল কাজগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
OpenClaw‑এর দ্রুত বিকাশ এবং Moltbook‑এর উদ্ভব দেখায় যে ওপেন‑সোর্স AI প্রকল্পগুলো কীভাবে কমিউনিটি‑চালিত উদ্ভাবনের মাধ্যমে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে, অ্যানথ্রপিকের কপিরাইট চ্যালেঞ্জের মতো আইনি বিষয়গুলোও ডেভেলপারদের সতর্ক করে, যাতে নামকরণ ও ব্র্যান্ডিংয়ে যথাযথ গবেষণা করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, OpenClaw এখন একটি স্থিতিশীল নাম ও সক্রিয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে AI সহকারী ক্ষেত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। Moltbook‑এর মাধ্যমে AI গুলো একে অপরের সঙ্গে সরাসরি মিথস্ক্রিয়া করে, যা ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও স্বয়ংক্রিয়করণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই গতিশীলতা প্রযুক্তি জগতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা দেখায় কিভাবে ওপেন‑সোর্স প্রকল্পগুলো দ্রুত জনপ্রিয়তা ও প্রভাব অর্জন করতে পারে।



