ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে ট্রাম্প সমর্থকদের ভিড়ের সামনে প্রিমিয়ার শেষে, রাজনৈতিক ডকুমেন্টারি ‘Melania’ প্রথম সপ্তাহে প্রায় আট মিলিয়ন ডলার বক্স অফিস আয় করতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই প্রারম্ভিক আয় চলচ্চিত্রের ব্যাপক বিতরণ এবং প্রচারমূলক ব্যয়ের ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রিমিয়ারটি ট্রাম্পের অনুগামীদের সমর্থন নিয়ে গঠিত একটি বিশাল ভিড়ের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে তীব্র আলোচনা হয়। এই পরিবেশ ডকুমেন্টারির প্রাথমিক দর্শক গোষ্ঠীকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
‘Melania’ এর লাইসেন্সিংয়ের জন্য আমাজন প্রায় চল্লিশ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে, যা শিল্পের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত। তদুপরি, মার্কেটিং খরচের হিসাব প্রায় পঁয়ত্রিশ মিলিয়ন ডলার, যা প্রচারমূলক কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করে।
ডকুমেন্টারিটি এমজিএম এর অধীনে ব্যাপকভাবে বিতরণ করা হবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের বহু থিয়েটারে সমানভাবে প্রদর্শিত হবে। বিশাল আর্থিক ব্যয় সত্ত্বেও, এই চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্য এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
রাজনৈতিক ডকুমেন্টারির মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ডধারী মাইকেল মুরের ২০০৪ সালের ‘Fahrenheit 9/11’ প্রথম সপ্তাহে ২৩.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে, এবং মোট ১১৯.২ মিলিয়ন ডলার বক্স অফিস অর্জন করেছিল। ‘Melania’ এই রেকর্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম আয় করতে পারে, তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ভিন্নতা তুলনা কঠিন করে তুলেছে।
প্রচারের ক্ষেত্রে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থকদের চলচ্চিত্র দেখার আহ্বান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলোর গ্রাসরুট মার্কেটিং ক্যাম্পেইনও রেড স্টেটের থিয়েটারগুলোতে দর্শক প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্য রাখে।
প্রচারণা মূলত টেলিভিশন, সামাজিক মিডিয়া এবং রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও রাজনৈতিক বার্তা জোর দিয়ে উপস্থাপন করা হয়। এই কৌশলটি সম্ভাব্য দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ জাগাতে সহায়তা করছে।
একই সপ্তাহে ২০শত শতাব্দীর ‘Send Help’ চলচ্চিত্রটি র্যাচেল ম্যাকডামসের প্রধান ভূমিকায়, সাম রাইমি পরিচালিত, প্রায় ষোলো থেকে আঠারো মিলিয়ন ডলার বক্স অফিস আয় করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্ক ফিশবাখের স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র ‘Iron Lung’ একই সময়ে মুক্তি পাবে এবং একই আয় সীমার মধ্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা বক্স অফিসের প্রতিযোগিতাকে তীব্র করে তুলছে।
প্রাথমিক সমালোচনায়, প্রধান মিডিয়া আউটলেটগুলো ‘Melania’ সম্পর্কে কঠোর সমালোচনা প্রকাশ করেছে, যা চলচ্চিত্রের সমালোচনামূলক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে। সমালোচকদের মতে, চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা পদ্ধতি অতিরিক্ত পক্ষপাতদুষ্ট।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, বিশাল বিজ্ঞাপন ব্যয় এবং রাজনৈতিক সমর্থন সত্ত্বেও, দর্শকের প্রকৃত আগ্রহ এবং মুখে মুখে প্রচার বক্স অফিসের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
‘Melania’ এর মুক্তি সময়ে, রেড স্টেটের থিয়েটারগুলোতে রক্ষণশীল সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে শহুরে ও লিবারেল এলাকায় দর্শক সংখ্যা সীমিত থাকতে পারে।
চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্য শেষ পর্যন্ত দর্শকের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া এবং মুখে মুখে প্রচারের উপর নির্ভর করবে, যা বক্স অফিসের চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিক্রয় ফলাফল এবং দর্শক প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করে, শিল্প বিশ্লেষকরা আগামী সপ্তাহে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন যে ‘Melania’ রাজনৈতিক ডকুমেন্টারির বাজারে কীভাবে অবস্থান করবে।



